• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 30 August, 2026

১৫ বছরেই অধিনায়ক বৈভব! ঈশানের চোটে দলীপ ট্রফিতে ইতিহাস গড়ল খুদে তারকা

আরিয়ান জুয়াল ৪৬ ও রিঙ্কু সিং ৬০ রান করেন। বাকিরা ফ্লপ। মুকেশ কুমার ও অভিজিৎ সরকার তিনটি করে উইকেট নেন। মহম্মদ শামি

১৫ বছরেই অধিনায়ক বৈভব! ঈশানের চোটে দলীপ ট্রফিতে ইতিহাস গড়ল খুদে তারকা

Vaibhav Sooryavanshi Photo-BCCI

বয়স মাত্র ১৫। এই বয়সে অনেকেই স্কুল ক্রিকেটের গণ্ডি পেরোতে পারেন না। আর বৈভব সূর্যবংশী? রবিবার দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে মধ্যাঞ্চলের বিরুদ্ধে পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক হয়ে মাঠে নামলেন তিনি। ভারতীয় ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এত কম বয়সে সিনিয়র দলের নেতৃত্ব দেওয়ার নজির গড়লেন বৈভব।

বেঙ্গালুরুর ম্যাচে পূর্বাঞ্চলের নিয়মিত অধিনায়ক ছিলেন ঈশান কিষান। কিন্তু মধ্যাঞ্চলের প্রথম ইনিংসের ১৯তম ওভারে বিপত্তি। উইকেটকিপিং করার সময় ডান কবজিতে জোরে বল লাগে ইশানের। মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। কিন্তু ব্যথা না কমায় তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। পরে দেখা যায়, তাঁর কবজিতে মোটা করে ব্যান্ডেজ বাঁধা হয়েছে।

ইশান মাঠের বাইরে চলে যেতেই উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব নেন কুমার কুশাগ্র। আর অধিনায়কের দায়িত্ব চলে যায় সহ-অধিনায়ক বৈভবের কাঁধে। ১৫ বছর বয়সে সিনিয়র প্রথম শ্রেণির দলের নেতৃত্ব—ভারতীয় ক্রিকেটে এমন দৃশ্য যে বিরল, তা বলাই বাহুল্য।

দলীপ ট্রফির আগে বৈভবকে পূর্বাঞ্চলের সহ-অধিনায়ক করা নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। এত কম বয়সের একজন ক্রিকেটারকে কেন এত বড় দায়িত্ব দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে নির্বাচকেরা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, বৈভবকে ভবিষ্যতের জন্য নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা দেওয়া এবং ধীরে ধীরে তৈরি করাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।

আর সেই সিদ্ধান্তের সুফল যেন প্রথম সুযোগেই দেখা গেল। অধিনায়ক হিসাবে মাঠে নেমে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সামলানোর পাশাপাশি বোলিং পরিবর্তন এবং ফিল্ডিং সাজানোর দায়িত্বও নিতে হল বৈভবকে। তাঁর দলের বোলিং আক্রমণে রয়েছেন মহম্মদ শামি, মুকেশ কুমার এবং অভিমন্যু ঈশ্বরনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারেরা।

প্রথম দিনের শেষে মধ্যাঞ্চলের স্কোর দাঁড়ায় ২৬৬ অলআউট। অর্থাৎ অধিনায়ক হিসাবে বৈভবের প্রথম পরীক্ষার শুরুটা একেবারেই মন্দ নয়। মাঠে তাঁর বয়সের চেয়ে দায়িত্বের ভারটাই যেন বড় হয়ে উঠেছে।

আরিয়ান জুয়াল ৪৬ ও রিঙ্কু সিং ৬০ রান করেন। বাকিরা ফ্লপ। মুকেশ কুমার ও অভিজিৎ সরকার তিনটি করে উইকেট নেন। মহম্মদ শামি দুটি উইকেট নেন। অভিষেকে দুটি উইকেট নেন মোহাম্মদ কুনাইন কুরেশি।

বৈভবের প্রথম শ্রেণির অভিষেক হয়েছিল ২০২৪ সালের শুরুতে। দলীপ ট্রফিতে এটাই তাঁর দ্বিতীয় ম্যাচ এবং কেরিয়ারের দশম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। এর মধ্যেই জাতীয় দলের দরজা খুলেছে তাঁর সামনে। এ বার ১৫ বছর বয়সেই নেতৃত্বের মুকুট।

ইশান কবে ফের মাঠে ফিরবেন, তা এখনই নিশ্চিত নয়। কিন্তু তিনি ফিরুন বা না ফিরুন, দলীপ ট্রফির এই সেমিফাইনাল বৈভব সূর্যবংশীর ক্রিকেটজীবনে আলাদা জায়গা করে নিল। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার আগেই এ বার নেতৃত্বের মঞ্চেও নিজের নাম লিখে ফেললেন ভারতের এই খুদে তারকা।