• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 23 October, 2026

প্রধানশিক্ষককে খুনের ২২ দিনের মাথায় কিনারা করল পুলিশ, গ্রেপ্তার ২

এই ঘটনা নিয়ে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। খুনের অভিযোগ পেয়ে জোরদার তদন্তে নামে পুলিশ। তার আগে অবশ্য

প্রধানশিক্ষককে খুনের ২২ দিনের মাথায় কিনারা করল পুলিশ, গ্রেপ্তার ২

Indian Navy Officer Arrested File Photo

ইসলামপুরের প্রধানশিক্ষক ছিলেন নজরুল ইসলাম। তাঁকে খুন করা হয়। এই খুন নিয়ে তদন্তে নেমে পড়ে পুলিশ। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়া এগোতে থাকে। আর সময়ও বইতে থাকে। কবে হবে খুনের কিনারা? অপরাধীরা ধরা পড়বে তো? এমন সব প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কিন্তু ঠিক ২২ দিনের মাথায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ইসলামপুর শহরের আলিনগর এলাকার এক মহিলা নাম জড়িয়েছে। আর নয়াদিল্লি থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে রাজ্যে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের জেরা করে খুনের ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মহিলার সঙ্গে ওই ব্যক্তি একটা সম্পর্ক ছিল। তারাই পরিকল্পনা করে প্রধানশিক্ষককে খুন করেছিল। কিন্তু খুনের নেপথ্য কারণ জানা যায়নি। এবার দুজনেই ধরা পড়েছে। তাই তাদের জেরা করে খুনের কারণ জেনে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুলিশ। খুন করার পর ওই ব্যক্তি গা-ঢাকা দেয় নয়াদিল্লিতে। মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে খুনে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর ওই মহিলার সম্পর্কে আগেই তথ্যপ্রমাণ হাতে এসেছিল। তার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ৮ আগস্ট সকালে স্কুলে যাচ্ছিলেন প্রধানশিক্ষক নজরুল ইসলাম। তখন দুষ্কৃতীদের হামলায় খুন হন আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা এই প্রধানশিক্ষক। তিনি রামগঞ্জের রাজাভিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক ছিলেন এবং বেশ জনপ্রিয়ও ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রত্যেকদিনের মতো সেদিনও স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। মাদারিপুর এলাকায় পৌঁছতেই তাঁকে লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালানো হয়। আর তার জেরেই গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন প্রধানশিক্ষক নজরুল ইসলাম। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ওই অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান।

এই ঘটনা নিয়ে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। খুনের অভিযোগ পেয়ে জোরদার তদন্তে নামে পুলিশ। তার আগে অবশ্য প্রধানশিক্ষকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাঁকে শিলিগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নজরুল ইসলামকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় গোটা জেলায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয় নানা মহল। অবশেষে দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।