আবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠল পশ্চিমবঙ্গে। এক বিশেষভাবে সক্ষম যুবতীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাট খেতে টেনে নিয়ে গিয়ে ওই যুবতীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। নদিয়ার শান্তিপুরে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এই কাজে দু’জন জড়িত বলে জানা যায়। আর তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হলে দুই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৫ বছরের এই বিশেষভাবে সক্ষম যুবতীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, পাট জমিতে টেনে নিয়ে গিয়ে বিশেষভাবে সক্ষম যুবতীকে ধর্ষণ করার পিছনে একটা ঘটনা আছে। ২৫ বছরের ওই যুবতী তাঁর ঠাকুমার সঙ্গে মাঠে ছাগল চড়াতে গিয়েছিল। তখন ওখানেরই পাশের আমবাগানে বসে মদ্যপান করছিল শান্তিপুর থানা এলাকারই দুই যুবক। তারা স্থানীয় হওয়ায় গোটা এলাকা তাদের চেনা। তারা লক্ষ্য রেখেছিল যুবতীর ঠাকুমার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলেই সেই সুযোগটা কাজে লাগাবে। ছাগল চড়ানোর সময় যখন ওই যুবতী ঠাকুমার থেকে একটু দূরে চলে যায় তখনই ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই দুই যুবক। ওই দুই যুবক তখন যুবতীকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় পাট জমির দিকে। সেখানেই ওই যুবতীকে দুই অভিযুক্ত যুবক ধর্ষণ করে। তার সঙ্গে চলে নির্মম নির্যাতন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই যুবতীকে যখন লাগাতার ধর্ষণ করা হচ্ছিল তখন চিৎকার করতে শুরু করেন নির্যাতিতা। সেটা শুনতে পান গ্রামের দুই বাসিন্দা। সেই চিৎকার চেঁচামেঁচি শুনতে পেয়ে ছুটে আসেন তাঁরা। তখন ওই যুবতীকে ফেলে পালিয়ে যায় ওই দুই যুবক। কিন্তু ওই দুই বাসিন্দা যুবকদের চিনে ফেলেছিলেন বলে পুলিশে সবটা জানিয়ে দেন। আর ওই ঘটনার ক্যামেরাবন্দিও করে পুলিশের হাতে প্রমাণ হিসাবে তা তুলে দেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই ওই ভিডিও প্রশাসনের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ওই দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে।
তাছাড়া এই ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পেতেই দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ওই এলাকা থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় দুই অভিযুক্ত যুবককে। সোমবারই তাদের রানাঘাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়। এখন এই ধৃতদের নিজেদের হেপাজতে নিয়ে গোটা ঘটনার মূলে তদন্ত করতে চাইছে পুলিশ। অভিযুক্তদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার দাবি তুলেছে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। সরব হয়েছেন প্রতিবেশীরাও। পুলিশও কথা বলেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে।




