চোরবাগান পুজো মণ্ডপে দুর্ঘটনায় সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে শ্বাসরোধ হয়ে একাধিক মৃত্যুর তথ্য সামনে এসেছিল। এবার মণ্ডপের ভেন্টিলেশন সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন তুলল তদন্তকারী দল। ফরেনসিক রিপোর্টে দাবি, মণ্ডপের ভিতরে এয়ার কন্ডিশনিং বা এসি ব্যবস্থার মারাত্মক ত্রুটি এবং উদ্যোক্তাদের স্পষ্ট গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে।
লালবাজার সূত্রের খবর, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ওই পুজো মণ্ডপের অন্দরমহল খতিয়ে দেখেছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট চোরবাগান মণ্ডপের ভেতর মোট ২৪টি এসি বসানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে এসির মোট ক্ষমতা বা টন ছিল ১৩৪ টন। একটি মণ্ডপের জন্য ১৩৪ টন এসি কম নয়।
তবে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ অন্য জায়গায়। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, মণ্ডপের যে বিশাল আয়তন এবং সপ্তমী-অষ্টমীর দিন সেখানে যে পরিমাণ মানুষের ভিড় হয়েছিল, সেই অনুযায়ী ১৩৪ টনের এসিও প্রয়োজনের তুলনায় সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত ছিল। বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে উঠে এসেছে, পুজো মণ্ডপটিতে ধারণক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত ভিড় হয়ে গিয়েছিল।
মণ্ডপের ভেতরে যখন দাঁড়ানোর মতন জায়গা নেই এবং হাজার হাজার দর্শনার্থী সেখানে প্রবেশ করছেন, তখন ভেতরে তৈরি হওয়া বিপুল পরিমাণ শারীরিক তাপ এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই ১৩৪ টন এসিও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপেই এসিগুলি ঠিকমতো কাজ করছিল না। ফরেনসিক রিপোর্টে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট গাফিলতির দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপে জনস্রোত কেমন হতে পারে, তার সঠিক মূল্যায়ন উদ্যোক্তারা করেননি। পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের সুব্যবস্থা না রেখে এবং প্রচণ্ড ভিড়ের কথা মাথায় না রেখে শুধুমাত্র এসি বসিয়েই দায়িত্ব সেরে ফেলা হয়েছিল। এর ফলে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, ‘রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’




