মুর্শিদাবাদ জেলা পঞ্চায়েতের কাজ খতিয়ে দেখতে এসেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এখানে পঞ্চায়েতের কাজ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। তবে পঞ্চায়েতের কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে জেগে থেকে নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে হবে। রবিবার সকালে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর নিয়ে কড়া বার্তাও দিয়েছেন তিনি। তৃণমূল সুপ্রিমো আইন বিরুদ্ধ কাজ করেছেন। তাই এফআইআর তো হবেই। এমনই মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে মালদহ জেলায় একটি সরকারি কর্মসূচিতে এসেছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। সেখান থেকে শনিবার রাতে জঙ্গিপুরে এসে পৌঁছন। সেখানে রাতে থাকার পর রবিবার সকালে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে প্রাতঃভ্রমণ করেন তিনি। রবিবারই জঙ্গিপুরে কাজ সেরে তারপর বীরভূমে একটি কর্মসূচিতে যাওয়ার কথা রয়েছে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রীর। আর এখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘মুর্শিদাবাদ জেলার উন্নতি হওয়া উচিত। এখানে কদিন আগেই পঞ্চায়েত দপ্তরের পক্ষ থেকে রিভিউ বৈঠক হয়েছে। এই জেলা পঞ্চায়েতের বেশ কিছু কাজে পিছিয়ে রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষকে জেগে থেকে নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে হবে। সমস্ত যোগ্য ব্যক্তিকে আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়া হচ্ছে।’
অন্যদিকে আবাস যোজনার কাজ থেকে শুরু করে জিরামজি কাজের বিষয়ে নানা তথ্য দেন তিনি। তৃণমূল আমলে পঞ্চায়েতের কাজে দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘আবাস যোজনা সার্ভের জন্য বিধায়কদেরকেও বলা হয়েছিল। তাঁরা যে নাম পাঠিয়েছে সেই নামগুলি সার্ভে করে দেখা হচ্ছে। ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে গরিব মানুষ যাতে কাজ পান সেটা সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের চেষ্টা করতে হবে। এই প্রকল্পে কাজের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রচুর টাকা খরচ করতে দিয়েছে। তবে বৃষ্টির জন্য কিছু জায়গায় কাজে একটু সমস্যা হচ্ছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে জোরদার কাজ শুরু হবে। তখন যেন কোনও মানুষ কাজ চেয়ে না পান এমন না হয়। মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূলের জমানায় বেশ কিছু পঞ্চায়েতে প্রচুর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এমন কিছু পঞ্চায়েতে বিশেষ অডিট করানো হচ্ছে।’
তাছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের আয়োজিত ছাত্র পরিষদের অনুষ্ঠানে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য এবং ক্যামাক স্ট্রিটে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার জন্য যথাক্রমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কলকাতার দুটি থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই এফআইআর নিয়ে দিলীপ ঘোষের কড়া বার্তা, ‘আইনের বিরুদ্ধে কাজ করলে এফআইআর তো হবেই। আমরা যখন দলের কর্মসূচি করতাম তখন আমাদের নামে হাজার হাজার মামলা দিয়েছে। কিন্তু ওরা তো কোর্ট-আইন মানছেন না। তাই আইন যা করার করবে।’




