• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 29 August, 2026

‘শুদ্ধিকরণ’ আসলে অস্পৃশ্যতা, এফআইআরে দাবি রাহুলের 

কংগ্রেসের দাবি, খাড়্গে দলিত হওয়াতেই এই কাজ। যদিও উত্তরাখণ্ড বিজেপির সভাপতি মহেন্দ্র ভট্টের দাবি, সভায় হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার প্রতিবাদেই ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা না হওয়া নিয়েই সরব রাহুল।

‘শুদ্ধিকরণ’ আসলে অস্পৃশ্যতা, এফআইআরে দাবি রাহুলের 

File Photo

উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের সভাস্থল ‘শুদ্ধিকরণ’ নিয়ে ফের সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বিজেপি এবং আরএসএসকে নিশানা করে তাঁর অভিযোগ, এই ‘শুদ্ধিকরণ’ আসলে অস্পৃশ্যতারই অন্য রূপ। তাঁর দাবি, এমন ঘটনা শুধু সংবিধানবিরোধী নয়, ফৌজদারি অপরাধও। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে এফআইআর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া উচিত বলে দাবি রাহুলের।

শনিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল বলেন, ‘শুদ্ধিকরণ আসলে অস্পৃশ্যতারই আর এক নাম। অস্পৃশ্যতা বেআইনি। অথচ বিজেপি প্রকাশ্যে এই ধরনের কাজ করে।’ তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনা দলিতদের প্রতি অপমানেরই প্রকাশ। রাহুলের প্রশ্ন, ‘আমাদের কোনও দলিত নেতা মন্দিরে গেলে স্থানীয় বিজেপি নেতারা শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠান করেন। কংগ্রেস সভাপতি খাড়্গেজি হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানে গেলে তারপরে সেখানে শুদ্ধিকরণ করা হল। এ সব কারা করেন?’ তাঁর দাবি, এর পিছনে বিজেপি এবং আরএসএসের মতাদর্শ কাজ করছে।

রাহুলের বক্তব্য, ‘যখন শুদ্ধিকরণ করা হয়, তখন কার্যত বলা হয় যে দলিতদের স্পর্শ করা উচিত নয়। এটা অপরাধ।’ তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের বৈষম্য শুধু একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এখনও দলিত শিশুকে দিয়ে স্কুলে শৌচাগার পরিষ্কার করানো হয়। ঝাঁট দেওয়ানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি। গ্রামের কুয়ো থেকে দলিতদের জল তুলতে না দেওয়া এবং পানীয় জলের ক্ষেত্রেও জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস নেতা।

এই ঘটনাকে বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়ের অংশ হিসাবেও দেখছেন রাহুল। তাঁর কথায়, দেশে এখন সংবিধানের আদর্শের সঙ্গে বিজেপি-আরএসএসের আদর্শের রাজনৈতিক সংঘাত চলছে। একদিকে আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরুর দেখানো সংবিধানের পথ। অন্যদিকে বিজেপি-আরএসএসের মতাদর্শ। তাঁর অভিযোগ, সংবিধানে সমানাধিকারের নিশ্চয়তা থাকলেও বাস্তবে দলিতরা এখনও নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার।

বিতর্কের সূত্রপাত ৮ আগস্ট। হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানে খাড়্গের সভার পর ‘শ্রীরাম সেনা’ নামে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন পুজো করে মাঠের ‘শুদ্ধিকরণ’ করে বলে অভিযোগ। কংগ্রেসের দাবি, খাড়্গে দলিত হওয়াতেই এই কাজ। যদিও উত্তরাখণ্ড বিজেপির সভাপতি মহেন্দ্র ভট্টের দাবি, সভায় হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার প্রতিবাদেই ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা না হওয়া নিয়েই সরব রাহুল। তাঁর দাবি, এসসি-এসটি আইনে এফআইআর করতে হবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ুর কোপে ঘরছাড়া মানুষ, আইনের ফাঁকে যেন হারিয়ে না যান: প্রধান বিচারপতি

ঘটনাটি নিয়ে বাদল অধিবেশনেও সরব হয়েছিলেন খাড়্গে। রাজ্যসভায় তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে অস্পৃশ্যতাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। সেই বিতর্কের কয়েক সপ্তাহ পর রাহুলের এদিনের মন্তব্যে বিষয়টি ফের জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে এল।