তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। আর তার প্রেক্ষিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে সভা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কালীঘাট-তৃণমূলের সভা হয় ক্যাথিড্রাল রোডে। সেই সভা করার ক্ষেত্রে শর্ত দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ওই নির্দেশ লঙ্ঘন করার অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভা করার জন্য একাধিক শর্ত দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তার মধ্যে একটি শর্ত হলো, রাস্তার একটি ফ্ল্যাঙ্ক খোলা রাখতে হবে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সেই নির্দেশ ভাঙার অভিযোগ তুললেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল ক্যাথিড্রাল রোডের সভায় দেখা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইশারা করতেই রাস্তার ওপারে গাছের নিচে থাকা লোকজন ব্যারিকেড ভেঙে ছুটে মঞ্চের কাছে চলে আসেন। তার জেরে রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনার জেরে বাস, গাড়ি চলাচল থমকে যায়।
অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল, তাঁদের সভা ভেস্তে দিতে গাড়ি ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মঞ্চ থেকেই সোচ্চার হয়েছিলেন তিনি। তারপর ওপারে থাকা কর্মী-সমর্থকদের এপারে মঞ্চের কাছে ডেকে নেন তিনি। তারপর জানিয়ে দেন, সবাইকে একদিকে নিয়ে আসা হয়েছে। যাতে ওপার ফাঁকা রাখা যায়। গাড়ি চলাচল করতে পারে। আদালতের নির্দেশ মেনেই তাঁরা কাজ করেন। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘দেখলেন তো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা হাইকোর্টের অর্ডার ভাঙলেন। রাস্তার একটি ফ্ল্যাঙ্ক ছেড়ে করতে বলেছিল। একদম গাছের নিচে থাকা লোককে ডেকে রাস্তা বন্ধ করিয়ে দিলেন। আমি পুলিশকে বলেছি এফআইআর রেজিস্টার করতে। আর ওঁনার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মুভ করতে। ছাড়া হবে না।’
তাছাড়া তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস করার জন্য কালীঘাট এবং ঋতব্রত তৃণমূল দুই শিবিরই কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিল। ঋতব্রত তৃণমূলকে রানি রাসমণি রোড এবং কালীঘাট তৃণমূলকে ক্যাথিড্রাল রোডের একটি অংশে সভা করার অনুমতি দিয়েছিল আদালত। কলাকাতা হাইকোর্ট বলেছিল, ১৫০০ জনের বেশি কর্মী-সমর্থক উপস্থিত থাকতে পারবেন না। দুপুর ১২টা থেকে ৩টের মধ্যে সভা শেষ করতে হবে। দুই সভার ক্ষেত্রেই রাস্তার একটি ফ্ল্যাঙ্ক খুলে রাখতে হবে। সেটাই মমতার সভায় ছিল না বলে অভিযোগ। বরং তাঁর সভায় জনস্রোত দেখা দিয়েছিল। এখন দেখার জল কতদূর গড়ায়।




