• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 29 August, 2026

নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬, নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার

সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৩,৩০১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে

নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬, নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার

Image: IANS

নেপালে বুধবার ভয়াবহ হড়পা বানের (Nepal Flash Flood) জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িছেয়ে ৬২৬। শনিবার সকালে নেপাল পুলিশের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে এই তথ্য জানানো হয়েছ। বিপর্যয়ের চতুর্থ দিনেও ধ্বংসস্তূপ ও দুর্গম এলাকায় চলছে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ।

পুলিশ জানিয়েছে, এখনও অন্তত ২,৫০০ জন নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন পুলিশকর্মীর সঙ্গেও এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় ৮,৭০০-রও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে মিলে তাঁরা জীবিতদের সন্ধান এবং মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছেন (Nepal Flash Flood) ।

সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৩,৩০১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে (Nepal Flash Flood) । যাঁদের অনেকে আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪০ জনকে কাঠমাণ্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: নেপাল থেকে পাটনা, অযোধ্যা হয়ে ফিরছেন মহারাষ্ট্রের পর্যটকেরা

শনাক্তের অপেক্ষায় বহু দেহ

কাঠমাণ্ডুর একটি অস্থায়ী মর্গে শনাক্ত না হওয়া মৃতদেহগুলির ছবি প্রকাশ করা হয়েছে (Nepal Flash Flood) । নিখোঁজ পরিজনদের খোঁজে থাকা পরিবারগুলিকে সাহায্য করতেই এই উদ্যোগ। নেপাল পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মর্গে রাখা অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহগুলির ছবি দেখানো হচ্ছে। কেউ কোনও দেহকে চিনতে পারলে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ময়াতদন্তের পর শনাক্ত হওয়া দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি নওয়ালপরাসি, চিতওয়ান ও নুয়োকোট-সহ বিভিন্ন এলাকার উদ্ধার হওয়া দেহের তথ্য ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।

তিব্বতে নতুন বিপদের আশঙ্কা

এদিকে চিনা প্রশাসনের তরফে নতুন বিপদের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। লেন্ডে নদীর উজানে একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে হ্রদের জল প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে চিন।

হিমবাহ ধসে জমা পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নদীর পথে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি করায় এই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। চিনের চোচেন নদী ও নেপালের পুরেপু নদীর সংযোগস্থলের কাছে এই ঘটনা ঘটে। মনে করা হচ্ছে, এই হিমবাহ ধসই চলতি সপ্তাহে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বানের অন্যতম কারণ।

নেপালের বিদেশ (Nepal Flash Flood) মন্ত্রককে পাঠানো বার্তায় চিন জানিয়েছে, নতুন তৈরি হওয়া হ্রদের জলের রং ক্রমশ গাঢ় হয়ে যাচ্ছে। এটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে চিন।

আরও পড়ুন: ‘চোখের সামনেই ভেসে গিয়েছে দু’টি বাস’, নেপাল থেকে ফিলে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা জানালেন ২১ ভারতীয়

নজরদারিতে ড্রোন ও উপগ্রহ  

তবে পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক (Nepal Flash Flood) না ছড়ানোর বার্তাও দিয়েছে বেজিং। চিনা কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, প্রাকৃতিক বাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলেও নদীতে প্রায় ৫০০ ঘনমিটার জল প্রতি সেকেন্ডে ঢুকছে। নদীর গতিপথের মধ্যে সেই জল ধরে রাখা সম্ভব বলেও মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত হ্রদটিতে প্রায় ২৫ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছে। আগামী কয়েক দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল সেখানে ঢুকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে ড্রোন ও উপগ্রহ ব্যবহার করছে চিন। পাশাপাশি সম্ভাব্য বন্যার প্রভাব বোঝার জন্য জলপ্রবাহের মডেলিংও করা হচ্ছে। শুক্রবার বিকেলেই হ্রদের জল লেন্ডে খোলা এবং ত্রিশূলি নদীতে ঢুকতে শুরু করেছে। চিনের সরকারি সরকারি সিসিটিভ ফুটেজ থেকে জানা গিয়েছে, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে নতুন করে জলস্ফীতির আশঙ্কায় নেপাল ও চিন দুই দেশের প্রশাসনই সর্তকতা জারি করেছে।

দেখুন: নেপালে উদ্ধার ৮৫ ভারতীয়, এখনও ৩১৫-র বেশি নিখোঁজ: বিদেশমন্ত্রী