ক্যাথিড্রাল রোড তখন কানায় কানায় ভর্তি। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশে উপস্থিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর পরিচালিত বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। একইসঙ্গে মঞ্চে উঠে কর্মী-সমর্থকদের আশ্বস্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, খুব তাড়াতাড়ি বাংলায় আরও একটা পরিবর্তন আসবে। আর তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরবে। এরপর বিজেপিকে বিঁধে বক্তৃতার আগাগোড়া আক্রমণ করতে শোনা যায় তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ধরে ধরে বিজেপিকে তুলোধনা করেন তিনি।
এদিকে শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্যাথিড্রাল রোডের সভায় ব্যাপক ভিড়ের মাঝে বেশ কিছু সাধারণ গাড়ি এবং অ্যাম্বুল্যান্স আটকে পড়ে। যার জেরে প্রায় ২৫ মিনিট সভার কাজ স্থগিত রাখতে হয়। তবে তৃণমূলনেত্রী উদ্যোগী হয়ে গাড়িগুলি নিরাপদ স্থানে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে পুনরায় ভাষণ শুরু করেন। এখান থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ‘আমরা বিজেপিকে মানি না, জানি না, চিনি না, শুনি না। আমার সময়ে পুলিশ মানবিক ছিল। আমি এই পুলিশকে চিনি না। মনে রাখবেন ছাতা কিন্তু সবসময় মাথার উপর থাকবে না। আমাকে নাকি বেরতে দেবে না, কত বড় বুকের পাটা। মনে রাখতে হবে, গায়ের জোরে সবকিছু চলে না। রাজ্যজুড়ে এখন বিজেপির ক্যাডারদের মাতামাতি চলছে। কিন্তু বাংলার সাধারণ মানুষ এসব অত্যাচার বেশিদিন সহ্য করবে না।’
অন্যদিকে বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপি হাইলোডেড, হাইভোল্টেজ ভাইরাস। যেখানে যাবে, সর্বনাশ করবে। রাজনীতি করে ছাত্রদের দমানো যায় না। ছাত্র আন্দোলন হলে বুক পেতে দাঁড়াবেন, বিজেপি হয়ে যাবেন না। আপনাদের পরিবারের উপর অত্যাচার হলে সহ্য করতে পারবেন তো? বেঙ্গল পুলিশকে বিশ্বাস করে না সরকার। না হলে এত কেন্দ্রীয় পুলিশ প্রয়োজন পড়ছে কেন? আমরা কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়াই ১৫ বছর সরকার চালিয়েছি। হানিমুন থেকে মানিমুন, ৪ মাসে সব করেছেন। রামজন্মভূমি থেকে পানিহাটি, কাশী বিশ্বনাথ লুট করেছেন। গদ্দার একবার হলে, চিরকাল হয়। আমাদের বিরুদ্ধে ১৪ হাজার কেস করেছে। দরকার হলে সুপ্রিম কোর্ট, ইন্টারন্যাশনাল কোর্টে যাব।’
তাছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কালীঘাটের বাড়ির সামনে প্রত্যেকদিন রাত ১০টায় দু’টি পাগল পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বিরক্ত করতে মাতালদেরও বিজেপি কাজে লাগাচ্ছে। সুর চড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘প্রত্যেকদিন রাত ১০টায় দুটো পাগল পাঠিয়ে দিচ্ছে মদ খাইয়ে। গালাগাল দিচ্ছে। মাতালদের কাজে লাগাচ্ছে।’ কদিন আগে রাজ্যের গ্রন্থাগার বিষয়ক মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ দাবি করেন, রবীন্দ্র রচনাবলীর ১৮টি খণ্ড এবং সঞ্চয়িতা-সহ বিধানসভার গ্রন্থাগারের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯টি বই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আছে। এই বিষয়ে এদিনের মঞ্চ থেকে তৃণমূলনেত্রী জবাব, ‘প্রমাণ ছাড়া কোনও অভিযোগ করবেন না। আমি চাইলে নিজেই লাইব্রেরি বানিয়ে দিতে পারি। মিথ্যে অভিযোগ করবেন না। আপনাদের কাছে প্রমাণ আছে? আমি নিজে বই লিখি।’ আর তারপরই কর্মী-সমর্থকদের তৃণমূল সুপ্রিমো বার্তা দিলেন, ‘চিন্তা করবেন না, বিজেপির অন্যায়ের জবাব বিজেপির লোকেরাই দেবে। খুব তাড়াতাড়ি তৃণমূল কংগ্রেস আবার সরকারে ফিরবে। আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার না ফেরালে আপনার ভাণ্ডার খুলে দেব।’




