• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 28 August, 2026

‘অভিষেক কি নিজেকে অক্ষয়কুমার ভাবছেন?’ প্রশ্ন সুকান্তর, ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে গ্রেপ্তার ১৩, মামলা

অন্যদিকে দ্বিতীয় এফআইআর করেছেন পার্কস্ট্রিট থানার সার্জেন্ট সুজিতকুমার মণ্ডল। তিনি অভিযোগপত্রে লিখেছেন, ক্যামাক স্ট্রিটে

‘অভিষেক কি নিজেকে অক্ষয়কুমার ভাবছেন?’ প্রশ্ন সুকান্তর, ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে গ্রেপ্তার ১৩, মামলা

MP Abhishek Banerjee-MP Sukanta Majumder Photo-SNS

ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ১৩ জনকে। এফআইআরগুলিতে অভিযুক্ত হিসাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও নাম রয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীরদের। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই তিনটি মামলাই হয়েছে শেক্সপিয়র সরণি থানায়। তার মধ্যে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিক, আর একটি পার্ক স্ট্রিট থানার এক সার্জেন্ট। আর অভিষেকের দপ্তরে সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং মারধর করা হয়েছে। মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা, শ্লীলনাহানির চেষ্টার মামলাও দায়ের হয়েছে। পাল্টা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করছেন। এই ঘটনা নিয়ে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

এদিকে শেক্সপিয়র সরণি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সুদীপকুমার বসু। অভিষেক, ডেরেক, হুমায়ুন, বৈশ্বানর এবং তৃণমূলের অন্য কর্মীদের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এক্ষেত্রে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী বেআইনি জমায়েত থেকে হিংসা ছড়ানো, অস্ত্রপ্রয়োগ, সরকারি আধিকারিকের কাজে বাধা এবং মারধর, হুমকি দেওয়া ও চুরির ধারা যোগ করা হয়েছে। শুক্রবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগে এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি সরগরম হয়ে ওঠে। যা নিয়ে সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে সাইনবোর্ডটি সম্পূর্ণ বেআইনি ছিল। কলকাতা পুরসভা তার জন্য আগেই নোটিস দিয়েছিল। বেআইনি নির্মাণ নিয়ম মেনে ভেঙে ফেলার অধিকার পুরসভার আছে। কর্পোরেশনের লোকেরা সেটাই করতে গিয়েছিল। কিন্তু যেভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গোরা বাধা দিলেন, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করলেন, উনি সাংসদ না গুন্ডা সেটাই বোঝা যাচ্ছে না।’

অন্যদিকে দ্বিতীয় এফআইআর করেছেন পার্কস্ট্রিট থানার সার্জেন্ট সুজিতকুমার মণ্ডল। তিনি অভিযোগপত্রে লিখেছেন, ক্যামাক স্ট্রিটে গোলমালের খবর পেয়ে পুলিশবাহিনী পাঠান। বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকা সাইনবোর্ড খুলতে গিয়েছিলেন পুরকর্মীরা। তাঁদের সহায়তা করছিল পুলিশ। কিন্তু সিঁড়িতে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় ওয়াকিটকি। একজনকে আটক করলে বাকিরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। তাতে তিনি এবং কনস্টেবল অমিতাভ সাহা আহত হন।

তাছাড়া অভিষেক, ডেরেক, বৈশ্বানরদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৪ নম্বর ধারা যোগ করা হয়েছে। যেখানে মহিলাদের হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার কথা রয়েছে। আবার ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে এবং পুলিশের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অভিযেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিজেপি সাংসদ তথা মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কটাক্ষ, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি নিজেকে অক্ষয়কুমার মনে করছেন? আর পাশে থাকা ষণ্ডামার্কা লোকটা নিজেকে কি সুনীল শেট্টি ভাবছে? যদি মনে করে থাকে, তবে তো মুশকিল! পুলিশকে এদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। বেআইনি কাজ করে আবার দাদাগিরি হচ্ছে।’