বাংলা ছবির ক্ষেত্রে যেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। বড় বাজেটের হিন্দি কিংবা দক্ষিণী ছবি এলেই প্রেক্ষাগৃহের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে বাংলা ছবিকে। এ বার সেই সমস্যার মুখে শমীক রায়চৌধুরীর ‘মায়া সত্য ভ্রম’। শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে প্রিয়ঙ্কা সরকার ও সোহম মজুমদার অভিনীত ছবিটি। একই দিনে মুক্তি পাচ্ছে দক্ষিণী তারকা যশের ‘টক্সিক’। আর তার জেরেই কলকাতার একাধিক প্রেক্ষাগৃহে শো পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ‘মায়া সত্য ভ্রম’-এর টিম।
অভিযোগ, শহরের মাল্টিপ্লেক্স থেকে সিঙ্গল স্ক্রিন—বেশির ভাগ শো চলে গিয়েছে ‘টক্সিক’-এর দখলে। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ জানিয়েছেন ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং পরিচালক। সমাজমাধ্যমে লাইভে প্রিয়ঙ্কা, সোহম ও শমীক বলেন, অন্য ভাষার ছবির জন্য যদি প্রায় সমস্ত শো বরাদ্দ হয়ে যায়, তা হলে বাংলা ছবির জন্য লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলায় মুক্তি পাওয়া বাংলা ছবির অন্তত উপযুক্ত সংখ্যক শো পাওয়া উচিত বলেই তাঁদের দাবি।
বাংলা ছবির জন্য প্রাইম টাইমে অন্তত একটি শো রাখার সরকারি নির্দেশিকা অবশ্য রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়ম কার্যকর করা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয় বিশেষত সিঙ্গল স্ক্রিনগুলিতে। মাল্টিপ্লেক্সে একাধিক পর্দা থাকায় বিভিন্ন ছবিকে শো দেওয়া সম্ভব হলেও সিঙ্গল স্ক্রিনে দিনে তিন বা চারটির বেশি শো চালানো যায় না। ফলে একই সময়ে একাধিক ছবি মুক্তি পেলে হল মালিকদের সামনে ব্যবসার অঙ্কটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়।
‘মায়া সত্য ভ্রম’-এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। একটি সিঙ্গল স্ক্রিনের সঙ্গে ছবি চালানো নিয়ে পরিচালকের চুক্তি হয়েছিল। পরে সেই হল মালিক সিদ্ধান্ত বদল করেন। আপাতত নন্দন, রাধা স্টুডিয়ো এবং পিভিআর-আইনক্সের কয়েকটি হলে একটি করে শো পেয়েছে ছবিটি। কিন্তু এর বাইরে আর কোন কোন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি চলবে, তা নিয়েই ধোঁয়াশায় পরিচালক।
ইন্ডাস্ট্রির একাংশ অবশ্য মনে করছে, শুধু ‘টক্সিক’-এর দাপট নয়, ‘মায়া সত্য ভ্রম’-এর পরিচালক হিসেবে শমীকের পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক রেকর্ডও হল পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। তাঁর আগের ছবি ‘বেলাইন’ সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়নি। ফলে নতুন পরিচালকের ছবিকে বেশি সংখ্যক শো দেওয়ার ক্ষেত্রে হল মালিকেরা ঝুঁকি নিতে চাইছেন না বলেই মত অনেকের।
এক সিঙ্গল স্ক্রিন মালিকের দাবি, যশের ছবি মুক্তি পাওয়ায় বড় হিন্দি ছবিও পিছিয়ে গিয়েছে। সেই জায়গায় একই সময়ে বাংলা ছবি মুক্তি দেওয়াকে তিনি ব্যবসায়িক ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন।
তবে ছবির নির্মাতাদের জন্য খানিকটা আশার খবরও রয়েছে। ‘টক্সিক’-এর অগ্রিম বুকিং ভাল হলেও ছবিটি নিয়ে দর্শকের একাংশের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। যশের ছবির প্রভাব পড়েছে জিতের ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-এর শোয়ের উপরেও। ফলে ‘টক্সিক’ প্রথম সপ্তাহে প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে না পারলে পরের সপ্তাহে বাংলা ছবির জন্য শো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থাৎ, আপাতত লড়াইটা শুধু দু’টি ছবির নয়। বড় তারকার ছবির দাপটে বাংলা ছবির জায়গা কতটা সংকুচিত হচ্ছে, ‘মায়া সত্য ভ্রম’-কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ফের সেই পুরনো প্রশ্নই সামনে এনে দিল।




