শিক্ষা দুর্নীতি থেকে সরকারি জমি দুর্নীতি। একের পর এক অভিযোগ দায়ের হয়েই চলেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে। একদিকে তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁকে ডাকছেন। তো অন্যদিকে বাড়ছে মামলার পাহাড়। নাজেহাল পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুমিত রায়। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে সুমিতের মামলাটির শুনানিতে আদালত মৌখিক ভাবে জানায়, ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই মামলা মুলতুবি থাকবে।
এদিন আদালত মৌখিত ভাবে আরও জানিয়েছে, যতদিন মামলা মুলতুবি থাকবে ততদিন সুমিতের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দেখার পর এ বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্ট প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। তার মধ্যে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন সুমিত।
আদালতে সুমিতের আইনজীবি বিকাশ পাহওয়া জানান, সুমিত পুলিশি তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা করছেন। মোট ৮ বার তদন্তকারী সংস্থার দপ্তরে হাজিরাও দিয়েছেন। গত ৫ জুন তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম এফআইআর হয়েছিল। দ্বিতীয়টি হয় ১৬ জুন। তারপরে আরও এফআইআর হয়েছে। মামলা দায়ের করেই চলেছে রাজ্য সরকার। প্রায় প্রতিদিনই মামলা হচ্ছে, আদালতে জানান সুমিতের আইনজীবী।
এরপরেই আদালত এফআইআর-এর হিসাব চায়। এখনও পর্যন্ত সুমিতের রিপোর্টের বিরুদ্ধে মোট কয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে আগামী শুনানিতে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে আদালতে এ বিষয়ে লিখিত ভাবে তথ্য দিতে হবে। রাজ্যের পক্ষ থেকে এডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত মামলাটির শুনানি হাইকোর্টে মুলতুবি রাখা হোক।
অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল আরও জানিয়েছেন, অভিষেকের আপ্তসহায়কের মাধ্যমে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২০ কোটি টাকা ঢুকেছে। একাধিক অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে। ৩১ আগস্টের পর মামলার শুনানি হোক। এরপরেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলাটি ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতুবি করে দেন।




