• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 22 August, 2026

এগিয়ে আমরাই- বলে দিলেন মোহনবাগান কোচ, হাবাসের মতে- ডার্বি আসলে মনস্তাত্বিক লড়াই

সম্প্রতি এমন একটা ম্যাচ জিতে মাঠ ছেড়েছে হাবাস-বাহিনী, যা থেকে প্রচুর আত্মবিশ্বাস এবং মোটিভেশনের রসদ পাওয়া যেতে পারে

এগিয়ে আমরাই- বলে দিলেন মোহনবাগান কোচ, হাবাসের মতে- ডার্বি আসলে মনস্তাত্বিক লড়াই

East Bengal-Mohunbagan Derby Photo-SNS

রাত পোহালেই মরসুমের দ্বিতীয় ডার্বি, যা আবার দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ফুটবল টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপের ফাইনালও। রবিবার যুবভারতীর গ্যালারি যে উপছে পড়বে, এই নিয়ে কোনো সন্দেহই নেই। দুই ক্লাবের কাছেই এ সন্মানের লড়াই, যাতে হেরে যাওয়ার অর্থ সমর্থকদের মাথা হেঁট হওয়া আর জিত মানে তাদের গর্বে মাথা উঁচু হওয়া। আর এই সন্মানের লড়াই-ই এই ফুটবল দ্বৈরথকে মনস্তাত্বিক লড়াইয়ে পরিণত করে তুলেছে।

ডুরান্ড কাপ ফাইনালের ২৪ ঘণ্টা আগে তাই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের কোচই একটা ব্যাপারে সম্পুর্ণ একমত— রবিবারের লড়াই যত না দুই দলের দক্ষতা, ক্ষমতা, অভিজ্ঞতার, তার চেয়ে অনেক বেশি মনস্তাত্বিক। অর্থাৎ, রবিবার যে দলের খেলোয়াড়রা স্নায়ুর শক্তি বজায় রেখে শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে পারবেন, তাঁরাই শেষ হাসি হাসবেন।

রবিবার একদিকের ডাগআউট থেকে যেমন দলকে নিয়ন্ত্রণ করবেন গ্রিক কোচ প্যানাগিওতিস দিলমপেরিস, তেমনই অন্য ডাগ আউট থেকে দলকে নির্দেশ দেবেন স্প্যানিশ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস, যাঁর এর আগেও ছ’টি ডার্বিতে দল নামানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।

প্রথম পাঁচটিতে অপরাজিত থাকলেও এক মাস আগে ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তাঁর ইস্টবেঙ্গলকে হার মানতে হয় দিলমপেরিসের মোহনবাগানের কাছে। সেই ম্যাচে সহাল আব্দুল সামাদের গোলে জেতে সবুজ-মেরুন বাহিনী।

এ বার তাই ইস্টবেঙ্গলের কাছে এ আসলে বদলার ডার্বি। কিন্তু বদলার কথা শুনে লাল-হলুদ কোচ হাবাস মজা করে বললেন, ‘আমার আর প্রতিশোধ-টতিশোধ নেওয়ার বয়স নেই। তবে আমার কেরিয়ারের প্রথম ডার্বিতে বা প্রথম ম্যাচে যে মোটিভেশন নিয়ে কাজ করেছি, এই ম্যাচেও সেরকমই মোটিভেশন আছে আমার’। এমনই ফুরফুরে মেজাজে আছেন হাবাস। এতটাই চাপহীন যে, এমন এক ম্যাচের আগের দিন দলকে অনুশীলন থেকে ছুটিই দিয়ে দিলেন। কেন? ‘গত দু’দিনে অনেক অনুশীলন হয়েছে। ছেলেরা একটু চাপমুক্ত থাকুক। তাই এই সিদ্ধান্ত’।

অন্যদিকে, মোহনবাগানের গ্রিক কোচ প্যানোস গত ছ’দিনে তিনটি ম্যাচ খেলতে হওয়ায় এবং যথেষ্ট ধকল নিয়ে শিলংয়ে যাতায়াত করা নিয়ে বেশ বিরক্ত। সোজাসুজি বলেই দিলেন, ‘সূচি নিয়ে আমি হতাশ। গ্রুপসেরা হয়েও এত হেনস্থা হতে হল আমাদের! গত ছ’দিনে আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তা মোটেই ঠিক হয়নি। আমাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে’।

তবে তিনি এসব নিয়ে বেশি ভেবে সময় নষ্ট করতে চান না। প্রতিপক্ষের কোচের মতো তাঁরও একই বক্তব্য, ‘যা-ই হোক, এত বড় একটা ম্যাচে দলের মানসিক শক্তিই সবচেয়ে জরুরি। তাই আমাদের কাল মানসিক ভাবে শক্তিশালী হয়ে নামতে হবে। এই ম্যাচটা আসলে স্কিলের লড়াই নয়, মানসিক শক্তির লড়াই’।

এই শক্তিতে অবশ্যই তাঁরাই এগিয়ে আছেন বলে দাবি করেন প্যানোস দিলমপেরিস। কারণ, এক মাস আগে যে ডার্বি হয়েছিল, তাতে তাঁর দলই জিতেছিল। সেই জন্যই তাঁরা এগিয়ে বলে মনে করেন গ্রিক কোচ। বলেন, ‘আগের ডার্বির সঙ্গে এই ডার্বির অনেক ফারাক। প্রথম ম্যাচে আমাদের কিছুই ছিল না। মরসুমের প্রথম ম্যাচ ছিল। না ছিল সঠিক প্রস্তুতি, না পুরো দল। এই ডার্বিতে অন্তত মোটামুটি একটা দল তৈরি করতে পেরেছি’।

তবে এই ফারাকটা মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে মনে করেন তিনি। কারণটাও ব্যাখ্যা করে সবুজ-মেরুন কোচ বলেন, ‘এ বারের ম্যাচটা পুরোপুরি মনস্তাত্বিক লড়াই। এ বারের লড়াইয়ে আমরা ভালো জায়গায় আছি। কারণ, প্রতিপক্ষকে এ বার আরো ভাল করে চিনি আমরা। এই ম্যাচ জিতলে আমরা চ্যাম্পিয়ন হব, সেই তাগিদও আছে। তবে যেহেতু আগের ডার্বিতে আমরা জিতেছিলাম, তাই এই ডার্বিতে আমরা বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামব। সে জন্যই রবিবার আমরাই এগিয়ে’।

শুধু মনস্তাত্বিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গে নয়, আরো একটা বিষয়েও দুই কোচ একই মেরুতে— আবেগ নিয়ন্ত্রণ। হাবাসও যেমন তাঁর খেলোয়াড়দের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে খেলার পরামর্শ দিয়েছেন, তেমনই দিলমপেরিসও তাঁর দলের ছেলেদের একই কথা বলেছেন বলে জানালেন।

তিনি বলেন, ‘এই রকম ম্যাচে অভিজ্ঞতা খুবই জরুরি। বিশেষ করে পরিবেশ কেমন থাকবে, তা জানা থাকলে সুবিধা হয়। কিন্তু এটাই সব নয়। আরো কিছু লাগে। কাল আমাদের আবেগও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। দক্ষতা, ক্ষমতা ছাড়াও মানসিকতার ওপরও জোর দিতে হবে’।

সার্বিয়ান অ্যাটাকার দেজান দ্রাজিচকে শিলংয়ে নিয়ে যাননি তাঁর চোটের জন্য। তবে রবিবার ডার্বিতে তিনি খেলবেন কি না, জানতে চাইলেও স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি কোচ। শুধু বলেন, ‘ওকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে ও কেমন আছে, তার পরে ঠিক করব ও খেলবে কি না’।

রেফারিং নিয়েও সম্প্রতি অনেক অভিযোগ করেছেন দিলমপেরিস। এ দিন সেই প্রসঙ্গ উঠলে, তিনি বলেন, ‘কাল ঐতিহাসিক টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপের ফাইনাল, যার খবর সারা দুনিয়া রাখবে। এই ম্যাচ নিয়ে যাতে কোনো নেচিবাচক বার্তা না যায়, তার দায়িত্ব আমাদের সবার। সমর্থক, কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ফুটবলারদের তো বটেই, সঙ্গে রেফারিদেরও। আশা করি, তারা এমন কিছু করবেন না, যার ফলে এই টুর্নামেন্টের বদনাম হয়’।

রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল হাবাসকেও। তিনি বলেন, ‘রেফারিং আমার খারাপ লাগেনি। রেফারির সব সিদ্ধান্ত আমাদের দিকেই আসবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। আমি চাই ভালো রেফারিং হোক। নিরপেক্ষ রেফারিং হোক। বিশ্বকাপেও রেফারিং নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে বেশি আলোচনা করে কী লাভ’?

হাবাসও বললেন আবেগ নিয়ন্ত্রণের কথা। তাঁর মতে, কলকাতার কাছে এটা স্পেশ্যাল ম্যাচ। এই ম্যাচে বরাবরের মতোই তীব্রতা থাকবে। সে জন্যই আমাদের খেলোয়াড়দের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে খেলতে হবে। লড়াইটা মূলত কৌশলের ও মনস্তত্ত্বের। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই নামব আমরা। ডুরান্ড কাপের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতার খেতাব জেতা তো অবশ্যই বড় ব্যাপার’।

সম্প্রতি এমন একটা ম্যাচ জিতে মাঠ ছেড়েছে হাবাস-বাহিনী, যা থেকে প্রচুর আত্মবিশ্বাস এবং মোটিভেশনের রসদ পাওয়া যেতে পারে। গত সপ্তাহে কুয়েতের আল আরাবিকে ৪-১-এ হারিয়ে রীতিমতো চমকে দেন হাবাসের দলের ফুটবলাররা। তবে হাবাস অন্য ধাতুতে গড়া। এমন একটা বড় জয়ের পরও সেই জয় থেকে মোটিভেশন নিতে চান না তিনি। বলেন, ‘এএফসি ম্যাচে জয়টা আমাদের কাছে খুব বড়। তবে ডার্বিতে আলাদা করে মোটিভেশন লাগে না। ডার্বিতে নামা মানেই মোটিভেশন আপনা আপনিই চলে আসে। কালকের ম্যাচেও সেটাই হবে’।

লাল-হলুদ কোচ ম্যাচের আগে থেকেই কোনো অভিযোগ-অজুহাত খাড়া করতে চান না। সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘আমি কখনো অজুহাত দেখাইনা। আমাদের যা করতে হবে, তা করতেই হবে। ইন্টার কাশিতে যখন ছিলাম তখন অনেক ধকল সহ্য করে দল নামাতে হয়েছে। তখনও অজুহাত দিইনি, এবারও দেব না। আমাদের সেরাটা খেলতে হবে, এটাই আমার কাছে সব। আমি সব ম্যাচই জেতার লক্ষ্য নিয়ে দল নামাই। তবে রোজ জেতা সম্ভব হয় না। এটাই ফুটবল, সব দলের ক্ষেত্রেই এটা হয়’।