এখন নতুন প্রজন্মের কাছে এআই একটা বাড়তি শিক্ষা। এই শিক্ষার মাধ্যমে এখন অনেক কিছুই করা সহজ হয়েছে। আর তাই এবার প্রযুক্তি শিক্ষার দরজা খুলতে চলেছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। (ডিএইচআর)। আর তার জেরে এখন টয়ট্রেনে বসে ডিজিটাল শিক্ষার পাঠ নিতে পারবে পড়ুয়ারা। শতাব্দীপ্রাচীন হেরিটেজের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটবে পাহাড়ি পথে। চা-বাগানের বুক চিড়ে টয়ট্রেন যখন পাহাড়ের রানির কোলে ছুটবে তখন তার মাঝে বসে ডিজিটাল শিক্ষার পাঠ নেওয়া যাবে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিংগামী টয়ট্রেনের কামরায় বসে ডিজিটাল শিক্ষার পাঠ নিতে পারবে পড়ুয়ারা।
একইসঙ্গে হেরিটেজ স্টেশনগুলির শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘স্টেশন মহোৎসব’ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে দেশের এই প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোডিং ট্রেন রাইডের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ উদ্যোগে দুটি বিষয় একসঙ্গে ঘটবে। এক, পড়ুয়ারা খুব আকর্ষিত হবে। দুই, টয়ট্রেনের আয় বাড়বে। দুর্গাপুজোর ছুটিতে বহু পরিবারই পাহাড়ের কোলে মাথা রাখবেন। তাঁদের কাছে এমন উদ্যোগ বাড়তি মাত্রা যোগ করবে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তার বুক চিড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেই ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ মিলবে। যা ছাত্রছাত্রীদের প্রযুক্তি শিক্ষায় আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে।
এই বিষয়ে একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় এই লাইভ কোডিং ক্লাসের আয়োজন করা হয়েছে। তবে কেবল জয়রাইড এবং কোডিং শিক্ষাই নয়, আগামী ৪ এবং ৫ সেপ্টেম্বর দার্জিলিং স্টেশনে জমজমাট সাংস্কৃতিক উৎসবেরও আয়োজন করা হয়েছে বলে খবর। আসন্ন দুর্গাপুজোর মরশুমে পাহাড়ে পর্যটকদের ঢল নামার কথা মাথায় রেখেই ডিএইচআর এমন অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। হেরিটেজ স্টেশনের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিশেষ এই দিনে ছাত্রছাত্রীদের জন্য কোডিং শেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যা নতুন প্রজন্মকে বাড়তি উৎসাহ দেবে।
তাছাড়া দার্জিলিং স্টেশনের এই উৎসবে ডিএইচআর থিমযুক্ত আর্ট, ফোটোগ্রাফি এবং আলোচনার কর্মশালা ও লাইভ মিউজিক, নৃত্য পরিবেশন এবং স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। একাধিক স্কুলের পড়ুয়ারা এই অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং পর্যটকরাও তার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। পাহাড়ের ঐতিহ্য তুলে ধরতে সেখানে ঐতিহ্যবাহী হরেকরকম খাবার এবং হস্তশিল্পের প্রদর্শনীও থাকবে। ডিএইচআর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ‘ঘুম উইন্টার ফেস্টিভাল’ যখন হবে তখন এই ডিজিটাল যাত্রার কর্মসূচি আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে। সেখানে আরও বেশি সংখ্যক স্কুলের পড়ুয়ারা যাতে যুক্ত হতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে।




