• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 21 August, 2026

এমবাপে-ভিনিসিয়াস-বেলিংহ্যামদের কড়া বার্তা মরিনিয়োর- ‘নাম দেখে কাউকে সমীহ করব না’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, ইন্টার মিলান বা রিয়াল মাদ্রিদ— সর্বত্রই নিজের নিয়মে দল চালানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। এ বারও তাঁর বার্তা একই— তারকার নাম নয়, দলের প্রয়োজনে পারফরম্যান্সই শেষ কথা।

এমবাপে-ভিনিসিয়াস-বেলিংহ্যামদের কড়া বার্তা মরিনিয়োর- ‘নাম দেখে কাউকে সমীহ করব না’

Photo: X

রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে তাঁর দিন এখনও শুরুই হয়নি। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তারকাখচিত দলকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিলেন হোসে মরিনিয়ো। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কিলিয়ান এমবাপে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র কিংবা জুড বেলিংহ্যাম— নাম বা খ্যাতির ভিত্তিতে কারও জন্য আলাদা নিয়ম হবে না। দলের স্বার্থই সবার আগে। প্রয়োজনে বেঞ্চেও বসতে হতে পারে বড় তারকাদের।

রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নিজের কোচিং দর্শন আরও এক বার স্পষ্ট করে দিয়েছেন পর্তুগিজ কোচ। তাঁর মতে, কোনও ফুটবলারের অতীত সাফল্য বা ব্যক্তিগত খ্যাতি দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মাপকাঠি হতে পারে না। মাঠে কে দলের জন্য কতটা কার্যকর, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শুক্রবার মরিনিয়ো রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট আগেই এসে পৌঁছন। সেও ছিল এক স্পষ্ট বার্তা— দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে কোনও আপস নয়, দলে জায়গার জন্য প্রতিযোগিতা অনিবার্য এবং দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশা বা অসন্তোষ বরদাস্ত করা হবে না।

বন্ধ দরজার পিছনে আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পর শনিবার এস্পানিওলের বিরুদ্ধে লা লিগার প্রথম ম্যাচের আগে রিয়ালের ভালদেবেবাস অনুশীলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মরিনিয়ো। উল্লেখযোগ্য ভাবে সংযত হয়েই তিনি ৪০ মিনিটেরও বেশি সময় কথা বলেন।

টানা দু’টি মরসুম কোনও ট্রফি ছাড়াই শেষ করার পর রিয়াল মাদ্রিদ যখন নতুন মরসুম শুরু করছে, তখন সম্প্রতি ফের নির্বাচিত হওয়া ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের উপরও চাপ বাড়ছে। তবে ক্লাবকে ঘিরে উদ্বেগ বা অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মানতে নারাজ মরিনিয়ো।

তিনি বলেন, দলের পরিবেশ এখন প্রত্যাশা এবং নতুন মরসুম শুরুর উত্তেজনায় ভরা। তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে খেলতে আমরা ক্লান্ত। প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য আমরা ফুটবলকে ভালবাসি না। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফের ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আমরা সবাই মুখিয়ে রয়েছি’।

আর চাপ প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘এখানকার অনুভূতিকে আমি চাপ বলব না। এটা বরং অ্যাড্রেনালিনের মতো— একটা ইতিবাচক উত্তেজনা, যা আপনাকে চাঙ্গা করে। আমি কোনও চাপ অনুভব করছি না। কারণ, আমরা যা করেছি, তার উপর আমার যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। খেলোয়াড়দের খিদে, দায়বদ্ধতা এবং প্রতিশ্রুতির উপরও আমার পুরো বিশ্বাস আছে’।

এর পরেই আসে দলের এক ঝাঁক তারকাদের প্রসঙ্গ। এমবাপে, ভিনিসিয়াস বা বেলিংহ্যামের মতো বিশ্ব ফুটবলের বড় নামও যে মরিনিয়োর নিয়মের বাইরে নন, তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। দলের প্রয়োজনে কাউকে বাইরে বসানোর সিদ্ধান্ত নিতে হলে তিনি তা নিতেও পিছপা হবেন না।

একই সঙ্গে এমবাপে, বেলিংহ্যাম এবং ভিনিসিয়াসকে একই দলে খেলিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়েও মুখ খোলেন পর্তুগিজ কোচ। বলেন, ‘আমি মনে করি না, এই পজিশনগুলি একে অপরের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে, আমাদের দারুণ একটা মরসুম কাটবে’।

তিনি আরও বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে, ব্রাজিল যেমন ভিনিকে কেন্দ্র করে দল গড়ে, ফ্রান্স যেমন এমবাপেকে এবং ইংল্যান্ড যেমন বেলিংহ্যামকে কেন্দ্র করে দল সাজায়, আমি তেমন ভাবে এই তিন জনের প্রত্যেককে ঘিরে আলাদা করে দল গড়তে পারব না। একই সঙ্গে তিন জনের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বের করাটাও আমার কাছে আরও কঠিন। কিন্তু আমাদের এখন এই পরিস্থিতিতেই এগোতে হবে’।

রিয়ালের নয়া কোচ আরও জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে তিনি শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নয়, দলের প্রতি দায়বদ্ধতাও চান। তাঁর মতে, তারকাদের নামের ভীড়ে ড্রেসিংরুম ভর্তি হলে সাফল্য আসে না। সবাইকে একই নিয়ম মেনে চলতে হয়। মরিনিয়ো বলেন, ‘ফুটবলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল দল। ব্যক্তিগত ভাবে কেউ যত বড়ই হোক না কেন, দল সব সময় তার উপরে’।

এই মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে রিয়ালের ভবিষ্যৎ। এমবাপেকে কেন্দ্র করে আক্রমণ সাজালেও একই দলে রয়েছেন ভিনিসিয়াস এবং বেলিংহ্যামের মতো তারকা। তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা, মাঠে স্বাধীনতা এবং দলের ভারসাম্য— সবটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে যে কোনও কোচের কাছে।

মরিনিয়োর কোচিং জীবনের অভিজ্ঞতা অবশ্য বলে যে, বড় নামকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ফেলতে তিনি কখনও ভয় পাননি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, ইন্টার মিলান বা রিয়াল মাদ্রিদ— সর্বত্রই নিজের নিয়মে দল চালানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। এ বারও তাঁর বার্তা একই— তারকার নাম নয়, দলের প্রয়োজনে পারফরম্যান্সই শেষ কথা।

এখন দেখার, মরিনিয়োর এই কঠোর দর্শনের সামনে এমবাপে-ভিনিসিয়াস-বেলিংহ্যামদের মতো তারকারা কী ভাবে সাড়া দেন। কারণ পর্তুগিজ কোচের হুঁশিয়ারি স্পষ্ট— রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে থাকলেই প্রথম একাদশে জায়গা নিশ্চিত নয়, জায়গা ধরে রাখার পরীক্ষা দিতে হবে প্রতি ম্যাচে।