• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 20 August, 2026

‘যারা কুৎসা রটিয়েছিল, তাদের ক্ষমা চাওয়ার সাহস নেই’! বিশ্বকাপ ফাইনালের এক মাস পর নিন্দুকদের তোপ ক্লদিও তাপিয়ার

আর্জেন্টিনা ফুটবল প্রধানের বার্তা, ‘এক মাস কেটে গিয়েছে, এখনও আমরা কোনও ক্ষমা প্রার্থনা শুনিনি। অথচ ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং দলের সঙ্গে যুক্ত সকলেই মাথা উঁচু করে আছেন। কারণ, তাঁরা জানেন, সে দিন তাঁরা কী করেছেন।

‘যারা কুৎসা রটিয়েছিল, তাদের ক্ষমা চাওয়ার সাহস নেই’! বিশ্বকাপ ফাইনালের এক মাস পর নিন্দুকদের তোপ ক্লদিও তাপিয়ার

Photo: X

বিশ্বকাপ ফাইনালের এক মাস কেটে গিয়েছে। তবু আর্জেন্টিনার ফুটবল দলকে নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। সেই আবহেই জাতীয় দলের বিশ্বকাপ অভিযান, খেলোয়াড়দের মানসিকতা এবং দেশের ফুটবল-সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মুখ খুললেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া।

এক মাস পরেও থামেনি বিতর্ক। বরং আর্জেন্টিনার ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে ওঠা ‘ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার’ অভিযোগে এ বার সরাসরি পাল্টা আক্রমণে গেলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাপিয়া। তাঁর দাবি, মাঠে সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া ফুটবলারদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অথচ এক মাস কেটে গেলেও অভিযোগকারীদের কারও কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়ার একটা লাইনও দেখা বা শোনা যায়নি।

 

‘ এক মাস কেটে গেল, অথচ কেউ বলেনি—আমরা ভুল করেছিলাম’

বিশ্বকাপ ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে তাপিয়া বলেন, ‘এক মাস কেটে গিয়েছে। সেই ফাইনালের এক মাস। মিথ্যা, ষড়যন্ত্র এবং এই জাতীয় দল ম্যাচটা ইচ্ছা করে ছেড়ে দিয়েছিল—এই ধারণা প্রতিষ্ঠার জন্য এক নীচ প্রচারেরও এক মাস। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, এক মাস পরেও তাঁদের কেউ ক্ষমা চাননি। কেউ সামনে এসে বলেননি, ‘আমরা ভুল করেছিলাম’।

তাপিয়ার কথায়, ভুল হতেই পারে। কিন্তু মিথ্যা বলে, গল্প সাজিয়ে এবং দিনের পর দিন সন্দেহ উস্কে দিয়ে পরে সত্য প্রকাশ্যে আসার পর চুপ করে থাকা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর তোপ, ‘ভুল মানুষ করতেই পারে। কিন্তু মিথ্যা বলা, একটা গল্প তৈরি করা, সন্দেহকে দিনের পর দিন উস্কে দেওয়া, আর পরে যখন সময় প্রমাণ করে দেয় যে সবটাই ধোঁয়াশা ছিল, তখন লুকিয়ে পড়া—এটা চলতে পারে না’।

আরও তীব্র ভাষায় আর্জেন্টিনা ফুটবল প্রধান বলেন, ‘আমাদের ফুটবলাররা যখন মাঠে সব কিছু উজাড় করে দিচ্ছিল, তখন মাঠের বাইরে কেউ কেউ ঠিক তার উল্টো কাজ করছিল—ঘৃণা ছড়াচ্ছিল, বিভাজন তৈরি করছিল, জাতীয় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছিল। তাঁদের বলছি, নিজেদের কৃতকর্মের দায়িত্ব নিন’।

 

‘ জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা বিশ্বাসঘাতক নয়’

তাপিয়ার মতে, শুধু চুপ করে থাকলেই দায় এড়ানো যায় না। তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিশ্বাসঘাতক বলার পর আর আগের জায়গায় ফিরে যাওয়া যায় না। যাঁরা এই জার্সির জন্য লড়েছেন, তাঁদের সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পরও নয়। কোনও প্রমাণ ছাড়াই ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করা যায় না, আর পরে সেই মিথ্যা প্রকাশ্যে আসার পর নীরব থাকা তো আরওই নয়’।

তাপিয়ার দাবি, অভিযোগকারীরা কোনও প্রমাণ ছাড়াই ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন এবং মাঠে জীবন বাজি রেখে লড়াই করা ফুটবলারদের দিকে আঙুল তুলেছিলেন। এখন তিনি বলছেন, ‘ওঁরা মিথ্যাকে সযত্নে বড় করেছেন এবং তাকেই সত্যে পরিণত করার চেষ্টা করেছেন। এ বার তাঁদের ব্যাখ্যা দেওয়ার পালা’।

 

‘যাঁরা সব কিছু উজাড় করে দিয়েছেন, তাঁদের কিছু ব্যাখ্যা করার নেই’

আর্জেন্টিনা ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং দলের সঙ্গে যুক্ত সকলের পাশেই দাঁড়িয়েছেন তাপিয়া। আর্জেন্টিনা ফুটবল প্রধানের বার্তা, ‘এক মাস কেটে গিয়েছে, এখনও আমরা কোনও ক্ষমা প্রার্থনা শুনিনি। অথচ ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং দলের সঙ্গে যুক্ত সকলেই মাথা উঁচু করে আছেন। কারণ, তাঁরা জানেন, সে দিন তাঁরা কী করেছেন। মাঠে তাঁরা কতটা উজাড় করে দিয়েছেন, তা তাঁরা জানেন। শেষ বাঁশি বাজার পর তাঁরা কারও কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য ছিলেন না’।

তাপিয়ার শেষ কথাই যেন তাঁর গোটা বার্তার নির্যাস—’যাঁরা মাঠে নিজেদের আত্মা পর্যন্ত উজাড় করে দিয়েছেন, তাঁদের কিছু ব্যাখ্যা করার নেই। ব্যাখ্যা দেওয়ার দায় তাঁদেরই, যাঁরা মিথ্যা বলেছেন’।