কলকাতার ফুটবল পরিকাঠামো কেমন, তা খুঁটিয়ে দেখলেন ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের (CBF) পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বুধবার রাতে শহরে এসে পৌঁছন তাঁরা। এ দিন বাইপাসের ধারের দুটি পাঁচতারা হোটেলে যান প্রতিনিধিরা। এর পর রাজার হাটে এআইএফএফ-এর সেন্টার অফ এক্সলেন্সের মাঠেও যান তাঁরা। এরপর বিকেলে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন এবং সেখানকার প্র্যাকটিস মাঠও ঘুরে দেখেন তাঁরা।
পাঁচ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ব্রাজিল দলের জেনারেল সুপারভাইজার সের্খিও দিমাস দি অলিভিয়েরা, অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ভিনিসিয়াস বারোজো কোস্তা, মার্কেটিং ও অপারেশনস ম্যানেজার হোসে ভিতর সেনাতোর দি পাউলা লিমা, ফিজিওলজিস্ট গিলহার্মে পাসোস রামোস এবং নিরাপত্তা আধিকারিক ব্রুনো মাজেই রেস। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ডিরেক্টর অফ ফুটবল সুব্রত পাল ও আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত।
আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বিরুদ্ধে নামবে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তার আগে ব্রাজিল ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের এই ধরনের সফর নতুন নয়। বিশ্বকাপ বা কোপা আমেরিকার আগেও যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, কলকাতাতেও সেই নিয়মেই পরিকাঠামো যাচাই করতে কলকাতায় এসেছেন তাঁরা।
কলকাতায় এসে যা দেখলেন, তার বেশিরভাগই পছন্দ হয়েছে সিবিএফ প্রতিনিধিদের। তবে যুবভারতীর মাঠের ঘাসের মান খুব একটা পছন্দ নয় তাঁদের এবং মাঠের উচ্চতা একটু বেশি বলেও মনে করেন তাঁরা। সুব্রত পাল, অনির্বাণ দত্তরা তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, যেহেতু ডুরান্ড কাপে পরপর ম্যাচ চলছে এবং প্রায় রোজই বৃষ্টি হচ্ছে, তাই মাঠের ঘাসের অবস্থা এমন।
ব্রাজিলের কর্তারা অবশ্য সুব্রতদের কথা শুনেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হননি। তাঁরা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট ও বৃষ্টি যখন হয় না, তখন ঘাস কী রকম অবস্থায় থাকে, তার কোনো ভিডিও ক্লিপিংস তাদের কাছে পাঠাতে। এ ছাড়াও তাঁরা জানিয়েছেন, ডুরান্ড কাপ মিটে গেলে সপ্তাহ দুয়েক পরে তারা ফের কলকাতায় আসবেন মাঠের অবস্থা দেখতে।
এ ছাড়াও যুবভারতীর ড্রেসিং রুমের ভিতরেও যান তাঁরা। এমনকী, তার মধ্যে যে ওয়াশরুম-গুলি রয়েছে, সেগুলিও খুঁটিয়ে দেখেন। সেখানে কী সংশোধন করা প্রয়োজন, সেই পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের সঙ্গে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-রও বৈঠক হয়। তিনি জানান, ‘ব্রাজিল ম্যাচের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সিবিএফ কর্তারা চাইলে পরিকাঠামোর উন্নতিও করা হবে। দর্শকরা যাতে একটা বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা পায় তা নিশ্চিত করতে চাই আমরা’। এদিন ক্রীড়ামন্ত্রীর পক্ষ থেকে সিবিএফ কর্তাদের বিশেষ স্মারক হিসেবে দূর্গামুর্তি দিয়ে সম্মান জানানো হয়।
জানা গিয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে এই একটি ম্যাচ খেলার জন্য ৯৬ জনের দল নিয়ে আসবে ব্রাজিল। তাতে খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সাপোর্ট স্টাফ, প্রশাসনিক কর্তারাও থাকবেন। ২৯ সেপ্টম্বর অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয় শেষ ম্যাচ খেলে ৩০ সেপ্টেম্বরই ব্রাজিল ফুটবল দল কলকাতায় চলে আসবে চার্টার্ড বিমানে।
টিকিটের দাম এখনো চূড়ান্ত না হলেও, ২৫০০ থেকে ২৫০০০ টাকার মধ্যে টিকিটের দাম রাখা হতে পারে। রাজার হাটের সেন্টার অফ এক্সেলেন্স এবং যুবভারতী সংলগ্ন প্র্যাকটিস মাঠের মধ্যে যুবভারতীর মাঠই তাদের বেশি পছন্দ বলে জানান ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। এ দিন আধ ঘণ্টার ওপর যুবভারতীতে ছিলেন তাঁরা। তার রাত পর্যন্ত ক্রীড়ামন্ত্রী, সুব্রত, অনির্বাণদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। এই বৈঠকেই তাঁরা জানিয়ে দেন, ৩ অক্টোবরের ম্যাচের জন্য তাঁদের ঠিক কী কী প্রয়োজন।
জানা গিয়েছে, শুধু মাত্র ঘাসের মান ও মাঠের উচ্চতা নয়, আরো কয়েকটি পরিকাঠামোগত বিষয়ে সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা এবং আগামী দেড় মাসের মধ্যে আয়োজকদের এই সংশোধনগুলি করতে হবে। সপ্তাহ দুয়েক পরে তাঁরা ফের আসতে পারেন বলে খবর। প্রয়োজন হলে আরো একাধিকবার তাঁরা সব কিছু খতিয়ে দেখে যাবেন, এমনও জানিয়েছেন।
কলকাতায় এসে একটি ম্যাচ খেললেও, সেই ম্যাচ নিয়ে এতটাই সিরিয়াস ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন, যা কল্পনার অতীত। বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসে তাঁরা একটাই কথা বুঝিয়ে দিলেন, একটা ম্যাচ হলেও তাদের সব কিছুই নিখুঁত চাই। এবং পরিকাঠামো নিখুঁত হলে তবেই সেরা ফুটবলারদের নিয়ে কলকাতায় আসবে।




