জনগণনা শুরুর আগে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি আপডেট করার দাবিতে আন্দোলন ঘিরে ফের উত্তপ্ত মণিপুর। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রাজ্যজুড়ে ৩ দিনের জন্য সমস্ত স্কুল, কলেজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। এর আওতায় রয়েছে মণিপুর বোর্ড, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কাউন্সিল এবং সিবিএসইর অধীনে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।
এনআরসি আপডেটের দাবিতে ‘ক্যাম্পেন ফর জাস্ট অ্যান্ড ফেয়ার ডেলিমিটেশন’ বা জেএফডির ডাকে ৪৮ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট চলছে রাজ্যে। বুধবার ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, বিষ্ণুপুর এবং থৌবাল-সহ উপত্যকার একাধিক জেলায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় মিছিল ও পথ অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। ইম্ফল পূর্বের খুরাই লামলং এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কনথৌজামের কুশপুতুল পোড়ানো হয়। ইম্ফল পশ্চিমের সিংজামেইতেও মিছিল করেন বিক্ষোভকারীরা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষজন, অর্থাত যাঁরা নিজেদের বাড়িঘর বা এলাকা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন, কিন্তু দেশের সীমানার বাইরে যাননি, তাঁরা নিজেদের এলাকায় ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত জনগণনা করা যাবে না। তাঁদের বক্তব্য, বহু মানুষ এখনও ঘরছাড়া থাকায় এই অবস্থায় জনগণনা হলে রাজ্যের জনসংখ্যার প্রকৃত ছবি উঠে নাও আসতে পারে। তাই আগে এনআরসি আপডেট করে প্রকৃত নাগরিকদের তালিকা তৈরি করতে হবে, তার পরে জনগণনা করতে হবে।
বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে জনগণনার প্রস্তুতিতেও। থৌবাল জেলায় সুপারভাইজার, গণনাকারী এবং যাঁরা বাড়ি বাড়ি বা নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে মানুষের তথ্য সংগ্রহ ও জনগণনার কাজ করবেন, তাঁদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত কর্মসূচি পরিস্থিতির কারণে বাতিল করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার থেকে সরকারি দপ্তর বয়কটের ডাক দিয়েছে জেএফডি। ফলে আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে মুখ্যমন্ত্রী সিআরপিএফের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সিআরপিএফের মণিপুর-নাগাল্যান্ড সেক্টরের আইজি রাজেন্দ্র নারায়ণ দাশ-সহ আধিকারিকরা মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
প্রশাসনের বক্তব্য, রাজ্য পুলিশ, সিআরপিএফ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। তবে জনগণনার সময় যত এগিয়ে আসছে, এনআরসির দাবিকে কেন্দ্র করে মণিপুরে আন্দোলনের তীব্রতা নতুন করে বেড়ে চলায় উদ্বেগও বাড়ছে।




