• facebook
  • twitter
Saturday, 25 April, 2026

মণিপুর-মিজোরাম থেকে কয়েকশো ‘ব’নেই মেনাশে’দের নিয়ে গেল ইজরায়েল

মণিপুর ও মিজোরাম থেকে ‘ব’নেই মেনাশে’ সম্প্রদায়ের মানুষদের ইজরায়েলে নিয়ে যাওয়া ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ধর্মীয় ও কৌশলগত কারণ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে যখন দেশের রাজনীতি সরগরম। ঠিক এমনই এক মুহূর্তে উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে কয়েকশো মানুষকে ইজরায়েলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটেছে। মণিপুর ও মিজোরাম থেকে ইতিমধ্যেই ২৪০ জনের বেশি মানুষকে তেল আভিভে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সূত্রের খবর, একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এই মানুষদের ইজরায়েলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রথম দফায় দিল্লি হয়ে তাঁরা তেল আভিভে পৌঁছেছেন। আগামী দিনে আরও বহু মানুষকে একইভাবে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আরও বহু মানুষকে সেখানে পুনর্বাসন দেওয়া হতে পারে।

Advertisement

এই মানুষরা মূলত ‘ব’নেই মেনাশে’ নামে পরিচিত এক বিশেষ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। তাঁদের অনেকেই নিজেদের প্রাচীন ইজরায়েলি জনজাতির বংশধর বলে মনে করেন। দীর্ঘ ইতিহাসের ধারায় তাঁরা বহু দেশ ঘুরে শেষ পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব ভারতে এসে বসবাস শুরু করেন বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। বর্তমানে মণিপুর ও মিজোরামে এই সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করেন।

Advertisement

ইজরায়েল সরকার বহুদিন ধরেই এই সম্প্রদায়ের মানুষদের নিজেদের দেশে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিচ্ছে। তাদের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ, আবাসন, কর্মসংস্থান এবং ভাষা শেখানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই সম্প্রদায়ের আরও অনেককে ইজরায়েলে নিয়ে যাওয়া হবে।

তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এর পিছনে শুধু ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় কারণ নয়, কৌশলগত স্বার্থও জড়িত থাকতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং শ্রমিক সংকট মেটানো— এই দুই বিষয়কেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ‘ব’নেই মেনাশে’ সম্প্রদায়ের অনেকের মতে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন এবং উন্নত জীবনের আশায় তাঁরা ইজরায়েলে যেতে আগ্রহী। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিকাঠামোর অভাব এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে তাঁদের বক্তব্যে। এই পুরো ঘটনায় একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে, তেমনই অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া কতটা বিস্তৃত হয় এবং তার প্রভাব কী দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

Advertisement