• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 20 August, 2026

Explainer: GPay, PhonePe, Paytm করলেই লাগবে বাড়তি চার্জ, আশঙ্কায় ফের ফিরছে লেনদেনে নগদ টাকার ট্রেন্ড

ফ্রি ইউপিআই লেনদেনের যুগ কি শেষ হতে চলেছে? বড় ব্যবসায়ীদের উপর MDR বসানোর প্রস্তাব ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক, গ্রাহকের পকেটে চাপ পড়ার আশঙ্কাও।

Explainer: GPay, PhonePe, Paytm করলেই লাগবে বাড়তি চার্জ, আশঙ্কায় ফের ফিরছে লেনদেনে নগদ টাকার ট্রেন্ড

Cash, Please? The Era Of Free UPI Transaction Is Gone (Magnific)

ইউপিআই (UPI) মানেই এতদিন ছিল বিনামূল্যের লেনদেন। কিন্তু সেই ছবিটা বদলাতে চলেছে বলে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংসদে পাশ হওয়া ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬-এর হাত ধরে বড় ব্যবসায়ীদের ইউপিআই লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর (MDR) ফেরানোর রাস্তা খুলে গিয়েছে। স্বভাবতই ছোট ব্যবসায়ীরা বাড়তি খরচের ভয়ে ডিজিটাল লেনদেন থেকে ক্রমে সরে আসার পথে ঝুঁকছেন। একই প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, সাধারণ ক্রেতা বা গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও। এবং এই পরিস্থিতিতে নগদের বিশেষত, খুচরো টাকার চাহিদা বাজারে ক্রমশ বাড়ছে।

আপনার পকেটের প্রশ্ন

অর্থ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, সাধারণ গ্রাহকের জন্য ইউপিআই একেবারে বিনামূল্যেই থাকছে। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির (পিয়ার টু পিয়ার) লেনদেনেও কোনও চার্জ বসছে না। এমডিআর চালু হলেও তা বসবে শুধু একটি নির্দিষ্ট টার্নওভারের উপরে থাকা বড় ব্যবসায়ীদের লেনদেনে, আর তার হারও ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের এমডিআরের তুলনায় অনেক কম রাখার কথা বলা হয়েছে। তা সত্ত্বেও খানিকটা প্যানিক মোড অন হয়ে গিয়েছে।

আসলে ভয়ের কারণটা কোথায়। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, বাজারের এই সংশয়টা লুকিয়ে অন্য জায়গায়। বড় ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে এই খরচ চাপলে তাঁরা সেটা পণ্যের দাম বাড়িয়ে কিংবা আলাদা সারচার্জ বসিয়ে গ্রাহকের ঘাড়েই ঠেলে দিতে পারেন, এই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে জোরালো। লোকালসার্কেলের একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, তিন হাজার টাকার বেশি লেনদেনে দোকানদার যদি বাড়তি চার্জ চাপান, তা হলে কী করবেন? এই প্রশ্নে মোট উত্তরদাতাদের মাত্র দুই শতাংশ ইউপিআই ব্যবহার চালিয়ে যেতে রাজি। বাকিরা ফিরে যেতে ইচ্ছুক নগদেই।

কেন হঠাৎ এই পথ

২০২০ সাল থেকে ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছিল, ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করতেই এই সিদ্ধান্ত। তার বদলে ব্যাঙ্ক আর পেমেন্ট সংস্থাগুলিকে ভর্তুকি দিয়ে আসছিল কেন্দ্র। কিন্তু সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির হিসেব বলছে, সেই ভর্তুকি গোটা শিল্পের প্রকৃত খরচের মাত্র ১১ শতাংশ পূরণ করে। বাকি খরচ বহন করতে হচ্ছে ব্যাঙ্ক আর পেমেন্ট সংস্থাগুলিকেই, ফলে প্রতারণা রুখতে বা পরিকাঠামো আধুনিক করতে লগ্নিতে তারা পিছিয়ে পড়ছে বলেই মত অর্থনীতিবিদদের একাংশের।

অর্থনীতিবিদ অজিত রানাডে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে যুক্তি দিয়েছেন, এমডিআর বসলেও গ্রাহকের কিছু আসবে যাবে না, এই ধারণাটাই ভুল। তাঁর মতে, প্রায় ৮৫ শতাংশ লেনদেনই ছোট অঙ্কের, চায়ের দোকান বা অটোভাড়ার মতো। এই খরচ কার ঘাড়ে বর্তাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয় বলেই তাঁর দাবি। এবং এই অস্বচ্ছতার কারণেই বাজারে ক্রমশ জাঁকিয়ে বসছে আতঙ্ক।

বাংলার ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য

কলকাতা ও জেলার বাজারগুলিতে গত কয়েক বছরে ইউপিআই একরকম নগদের বিকল্প হয়ে উঠেছে, নিউ মার্কেট থেকে গড়িয়াহাট, ছোট ফুটপাথের দোকানে পর্যন্ত কিউআর কোড এখন সাধারণ দৃশ্য। প্রস্তাবিত নিয়মে ছোট ব্যবসায়ীদের এমডিআরের আওতার বাইরে রাখার কথা বলা হলেও, বড় প্রতিষ্ঠান আর ই-কমার্স সংস্থাগুলির খরচ বাড়লে তার ঢেউ ঘুরপথে ছোট বাজারেও এসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ী মহলের একাংশের।

পেমেন্টস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া অবশ্য বারবার বলছে, লেনদেন গ্রহণের খরচ ব্যবসার নিজস্ব খরচ হিসেবেই থাকা উচিত, গ্রাহকের ঘাড়ে চাপানো ঠিক নয়। এমডিআরের নির্দিষ্ট হার আর সীমা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, ফলে পুরো ছবিটা স্পষ্ট হতে আরও সময় লাগবে। তবে বাজারে যে ফ্রি-ইউপিআই নিয়ে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, তা নগদ ব্যবহারের প্রবণতায় আচমকা বৃদ্ধিতেই বোঝা যাচ্ছে।