• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 20 August, 2026

ম্যাচের আগে হাত মেলানোয় ‘না’, ম্যাচ শেষে সৌজন্য! ভারত-পাকিস্তান হকিতে দেখা গেল অন্য ছবি

প্রায় ১০ হাজার দর্শকে ভর্তি ওয়াগেনার স্টেডিয়ামে তাই ম্যাচের উত্তেজনার পাশাপাশি ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের করমর্দনের দৃশ্যও আলাদা করে নজর কাড়ে। রাজনৈতিক উত্তাপের বাইরে খেলাধুলার নিজস্ব সৌজন্য যে এখনও রয়েছে, আমস্টেলভিনের এই ছবিই যেন তার প্রমাণ।

ম্যাচের আগে হাত মেলানোয় ‘না’, ম্যাচ শেষে সৌজন্য! ভারত-পাকিস্তান হকিতে দেখা গেল অন্য ছবি

Photo: Hockey India

ক্রিকেটে যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক, হকিতে তার সম্পূর্ণ উল্টো ছবি!

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই উত্তেজনা, আবেগ এবং দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপড়েনের ছায়া। কিন্তু বুধবার নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনে হকি বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা গেল খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার এক সুন্দর উদাহরণ। ম্যাচের আগে চিরাচরিত ভাবে হাত মেলাননি দুই দলের খেলোয়াড়েরা। বদলে একে অপরের দিকে বাড়িয়ে দিলেন হাত—হল হাই-ফাইভ। আর ম্যাচ শেষ হতেই আবার হাত মেলালেন দুই দলের খেলোয়াড়েরা।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শুরুর আগে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজে। তার পর দুই দলের খেলোয়াড়েরা সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়ান। সাধারণত এই সময়েই প্রতিপক্ষের সঙ্গে করমর্দন করেন খেলোয়াড়েরা। কিন্তু এ দিন সেই প্রথা দেখা যায়নি। তার বদলে ভারত ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা একে অপরকে হাই-ফাইভ করে শুভেচ্ছা জানান। মাঠের লড়াইয়ের আগে তাতেই প্রকাশ পায় পারস্পরিক সম্মান।

তবে আসল চমক আসে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরে। ৫-৩ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হারিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ভারতীয় এবং পাকিস্তানি খেলোয়াড়েরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলান। অর্থাৎ, ম্যাচ শুরুর আগে করমর্দন না হলেও ম্যাচ শেষে সেই সৌজন্য বজায় থাকল। সমাজমাধ্যমেও এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে।

ক্রিকেটের সঙ্গে হকির এই পার্থক্যই বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে সবার। অনেকে ভারতীয় হকি দলের এই উদার মনোভাবের তীব্র সমালোচনাও করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচে দুই দলের মধ্যে করমর্দন না করার ঘটনা বার বার আলোচনায় এসেছে। কিন্তু হকিতে এখনও সেই ছবি দেখা যায়নি। গত বছর সুলতান অব জোহর কাপে ম্যাচের পরও ভারত ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা হাত মিলিয়েছিলেন।

তবে মাঠে অবশ্য কোনও বন্ধুত্ব ছিল না। বিশ্বকাপে নিজেদের পুল ডি-র শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ভারত। অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং পেনাল্টি কর্নার থেকে দু’টি গোল করেন। অভিষেকও করেন জোড়া গোল। হার্দিক সিংয়ের পেনাল্টি স্ট্রোকে আসে ভারতের পঞ্চম গোল। পাকিস্তানের হয়ে হান্নান শাহিদ দু’টি এবং সুফিয়ান খান একটি গোল করেন। শেষ পর্যন্ত ৫-৩ জিতে পরের পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে ভারত আর এই হারে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের।

অন্য দিকে, এক দশক ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপরাজিত থাকার ধারাও বজায় রাখে ভারত। প্রায় ১০ হাজার দর্শকে ভর্তি ওয়াগেনার স্টেডিয়ামে তাই ম্যাচের উত্তেজনার পাশাপাশি ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের করমর্দনের দৃশ্যও আলাদা করে নজর কাড়ে। রাজনৈতিক উত্তাপের বাইরে খেলাধুলার নিজস্ব সৌজন্য যে এখনও রয়েছে, আমস্টেলভিনের এই ছবিই যেন তার প্রমাণ।

এই জয়ের পর ভারতীয় দলকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি অভিনন্দন জানিয়ে সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘তোমাদের অসাধারণ দক্ষতা ও আধিপত্য এক দশক ধরে ভারতের মাথায় উঁচু করে রেখেছে। আসন্ন ম্যাচগুলির জন্য শুভেচ্ছা রইল’।

তবে এই পারফরম্যান্সেও খুব একটা খুশি নন ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। তাঁর সাফ কথা, ‘আক্রমণে কয়েকটা সুযোগ হাতছাড়া হলেও ঠিক আছে। কিন্তু রক্ষণে কোনো ভুল করাটা মোটেই ঠিক না। ২৫ মিটার অঞ্চলে বল পেলে তা ধরে রাখতেই হবে। আমাদের এই জায়গাতেই কিছু ছোট ছোট ভুল হচ্ছে। শেষ দুই ম্যাচে আমরা বারবার বলেছি, তৃতীয় কোয়ার্টারে ধীর গতিতে শুরু করা যাবে না। কিন্তু আমাদের বারবার এই জায়গাতেই ভুল হচ্ছে’।

তবে কিছুক্ষেত্রে দলের প্রশংসাও করেছেন হরমনপ্রীত। বলেন, ‘আমাদের সার্কেলে প্রবেশ করা বল দখলে রাখা, সুযোগ তৈরি করা এবং পাসিং—এ সবই বেশ ভালো হচ্ছে। তবে ভুলগুলো শোধরানো দরকার। না হলে বিশ্বকাপ জেতা কঠিন হয়ে উঠবে’।