• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 20 August, 2026

বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবকই গাইবে কংগ্রেস, স্থির হল বৈঠকে, পাল্টা দিলেন শাহ

বন্দে মাতরম্ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল কংগ্রেস। বুধবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক গোষ্ঠী কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে স্থির হয়েছে

বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবকই গাইবে কংগ্রেস, স্থির হল বৈঠকে, পাল্টা দিলেন শাহ

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বন্দে মাতরম্ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল কংগ্রেস। বুধবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক গোষ্ঠী কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে স্থির হয়েছে, দলীয় কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে জাতীয় গানের প্রথম দু’টি স্তবকই গাওয়া হবে। দলের তরফে এই সিদ্ধান্তের কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিজেপি অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের দেশপ্রেম এবং দেশের প্রতি আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কংগ্রেসের বক্তব্য, ১৯৩৭ সালে কলকাতায় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে মহাত্মা গাঁধী, জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার বল্লভভাই পটেল-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা বন্দে মাতরম্-এর প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতামতও নেওয়া হয়েছিল। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান পরিষদের শেষ বৈঠকে বন্দে মাতরম্-কে জাতীয় গানের মর্যাদা দেওয়া হয় এবং জনগণমনের সমান সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই দলের সমস্ত কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম্-এর প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল বলেন, ‘দেশের জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন এবং জাতীয় গান বন্দে মাতরম্‌ কংগ্রেসের কাছে এক আবেগের বিষয়। বিজেপি তা নিয়ে রাজনীতি করছে।’

যদিও এই নিয়ে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জানিয়েছেন,  ‘কংগ্রেস যে তোষণের রাজনীতি করছে এই সিদ্ধান্তই তার প্রমাণ। ভোট ব্যাঙ্কের জন্য ওরা বঙ্কিমবাবুর অমর সৃষ্টির অপমান করছে। বন্দে মাতরম ধ্বনি দিয়ে যে অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামী লড়াই করেছেন, জেলে গিয়েছেন, তাঁদেরও অপমান করছে কংগ্রেস।’ শাহর কথায়, বন্দে মাতরমকে দুইভাগে ভাগ করার ফল ভুগেছে দেশ। ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত ফেরত এনে আবার সেই তোষণ চালু করছে কংগ্রেস। কিন্তু মানুষ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানান, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার প্যাটেলের মতো ব্যক্তিত্ব যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে, কংগ্রেস সেই সিদ্ধান্তেই অটল থাকবে। বেণুগোপালের মতে, ‘বন্দে মাতরম কংগ্রেসের কাছে আবেগের বিষয়, কিন্তু বিজেপি এই নিয়ে রাজনীতি করে।’ যদিও ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক ভুল বলে অভিহিত করেছেন শাহ। সেই ভুল সংশোধন করা হয়েছে বলেই তাঁর দাবি।