• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 19 August, 2026

রেলের সঙ্গে বাংলার ছোট শিল্পের যোগাযোগ বাড়াতে কলকাতায় সম্মেলন

রেলের বিভিন্ন কাজে বাংলার ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলিকে আরও বেশি করে যুক্ত করার লক্ষ্যে কলকাতায় সম্মেলন হল। বুধবার কলকাতার আইটিসি

রেলের সঙ্গে বাংলার ছোট শিল্পের যোগাযোগ বাড়াতে কলকাতায় সম্মেলন

PIC- SNS

রেলের বিভিন্ন কাজে বাংলার ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলিকে আরও বেশি করে যুক্ত করার লক্ষ্যে কলকাতায় সম্মেলন হল। বুধবার কলকাতার আইটিসি সোনারে দ্বিতীয় ‘রেল সিনার্জি অ্যান্ড বেঙ্গল এমএসএমই ভেন্ডর কানেক্ট সামিট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় শিল্প মহাসংঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখার উদ্যোগে, পূর্ব রেলের সহযোগিতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এই সম্মেলনে রেলের যন্ত্রাংশ তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পণ্য পরিবহণের কাজে স্থানীয় শিল্প সংস্থাগুলির সুযোগ বাড়ানো নিয়েই মূলত আলোচনা হয়। রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে শিল্প সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান।

সম্মেলনে পূর্ব রেল, দক্ষিণ-পূর্ব রেল, কলকাতা মেট্রো এবং ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন। রেলের বাণিজ্যিক, যন্ত্রাংশ, ট্রেন চলাচল ও রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ এবং সংকেত বিভাগের আধিকারিকেরাও অংশ নেন। পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শিল্প দপ্তর, বিভিন্ন শিল্প সংস্থা এবং স্থানীয় শিল্পোদ্যোগীদের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

রেলের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের ব্রডগেজ রেলপথের প্রায় ৯৮ শতাংশ বিদ্যুতায়িত হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রেলের মোট মূলধনী খাতে ২ লক্ষ ৬৫ হাজার কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে নিরাপত্তার জন্য ১ লক্ষ ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরে প্রতিদিন গড়ে ৩৮১টি ট্রেন চলেছে।

সম্মেলনে রেলের কোচ ও মালগাড়ির যন্ত্রাংশ দেশে তৈরি করা, ‘কবচ’ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বাড়ানো এবং ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর ও গতি শক্তি কার্গো টার্মিনালের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

রেলের সঙ্গে কাজের সুযোগ নিয়ে শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থাও ছিল। এ দিন ২০০-র বেশি বৈঠক হয়েছে। রেলের কাছে পণ্য সরবরাহের নিয়ম, কাজ পাওয়ার যোগ্যতা এবং সরকারি ই-মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে ব্যবসা করার পদ্ধতি নিয়েও শিল্প সংস্থাগুলিকে তথ্য দেওয়া হয়।

সম্মেলনে আধুনিক প্রযুক্তির একটি প্রদর্শনীও ছিল। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিভিন্ন যন্ত্রের তথ্য সংগ্রহের প্রযুক্তি, পরিদর্শনের কাজে ড্রোন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি দেখানো হয়।

পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে বলেন, রেলের আধুনিকীকরণে স্থানীয় শিল্প সংস্থাগুলিকে আরও বেশি করে যুক্ত করা দরকার। ছোট ও মাঝারি শিল্পকে রেলের সঙ্গে যুক্ত করলে দেশীয় উৎপাদন বাড়বে।

পূর্ব রেলের প্রিন্সিপাল চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার উদয় শঙ্কর ঝা জানান, রেলের সঙ্গে শিল্প সংস্থাগুলির কাজের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার চেষ্টা চলছে। পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার সুযোগ তৈরির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রেলের সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের যোগাযোগ বাড়ানো এবং রেলের কাজে দেশীয় সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ানোই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।