• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 19 August, 2026

বিদেশি বিনিয়োগে ছাড়, ডিজিটাল লেনদেনে বদলের পথ খুলে দিল কেন্দ্র

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে এবারে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। আর সেই সঙ্গে ডিজিটাল লেনদেনের পরিকাঠামো আরও সুসংগঠিত করার জন্য আইনে বদল

বিদেশি বিনিয়োগে ছাড়, ডিজিটাল লেনদেনে বদলের পথ খুলে দিল কেন্দ্র

বিদেশি বিনিয়োগে ছাড়, ডিজিটাল লেনদেনে বদলের পথ খুলে দিল কেন্দ্র PIC- AI

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে এবারে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। আর সেই সঙ্গে ডিজিটাল লেনদেনের পরিকাঠামো আরও সুসংগঠিত করার জন্য আইনে বদল আনল করল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। ২০২৬-এর ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট এবং ২০০৭-এর পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট সংশোধনের আইনে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

১০ আগস্ট সংসদে পাশ করানো হয়েছিল ২টি বিল। আর তাতে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করেন ১৭ তারিখে। তা জানানো হয়েছে আইন মন্ত্রকের প্রকাশিত গেজেটে। নতুন আইনি কাঠামোর জন্য একদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্বস্তি পাবে। সেই সঙ্গে দেশে বৈদ্যুতিন পণ্য ও যন্ত্রাংশ তৈরি করতে বিদেশি সংস্থাগুলিকে উৎসাহ দেওয়া যাবে। সেই সঙ্গে ইউপিআই পেমেন্টে এতদিন যে জিরো মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট ছিল তা পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে বদলে নেওয়ার আইনি সুযোগ তৈরি করা হল।

আয়কর আইন সংশোধনের লক্ষ্য হলো বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতে আদর্শ বিনিয়োগের পরিবেশ গড়ে তোলা। নতুন আইনটি গত ৫ জুন জারি হওয়া অর্ডিন্যান্সকে প্রতিস্থাপন করেছে। ওই অর্ডিন্যান্সে সরকারি ঋণপত্রে বিনিয়োগ থেকে এফপিআইগুলির সুদ ও মূলধনী লাভের উপরে আয়কর ছাড়ের ব্যবস্থা ছিল। সংশোধিত আইনে ভারতে ফান্ড ম্যানেজারদের ব্যবসা স্থানান্তর  করার পথও সহজ হয়েছে। কিছু শর্ত ছাঁটাই করা হয়েছে, যেগুলি পূরণ না হলে ওই ফান্ডের আন্তর্জাতিক ব্যবসা থেকে আয়ও ভারতে করযোগ্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। সরকারের আশা, এই পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের কাছে ভারত আরও আকর্ষক গন্তব্য হয়ে উঠবে এবং বিদেশি মূলধনের পরিমাণ বাড়বে।

 

বৈদ্যুতিন উৎপাদন শিল্পকে উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন আইনে দীর্ঘমেয়াদি নীতি নিশ্চয়তার বার্তা রয়েছে। ভারতে চুক্তির ভিত্তিতে বৈদ্যুতিন পণ্য উৎপাদন করানোর ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থাগুলি যে আয়কর ছাড় পেয়ে থাকে, তার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৪০-৪১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে বিদেশি সংস্থাগুলির কাছে ভারতে উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা কিংবা স্থানীয় নির্মাতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে যাওয়ার প্রবণতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। আইনে যে পণ্যগুলিকে বিশেষ ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পার্সোনাল কম্পিউটার, ট্যাবলেট, সার্ভার এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী রয়েছে। বিদেশি সংস্থাগুলি কাস্টমস-নিয়ন্ত্রিত গুদামে যন্ত্রাংশ মজুত রেখে ভারতে চুক্তিবদ্ধ নির্মাতাদের সরবরাহ করলে তার থেকে যে আয় হবে, তার উপরে ১৫ বছরের জন্য, অর্থাৎ ২০৪০-৪১ পর্যন্ত আয়কর ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০০৭-এর সংশোধন ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। সংশোধিত আইনে সরকারকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা বা লেনদেনকে এমডিআর বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট থেকে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।