• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 19 August, 2026

নিউ মার্কেটের একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৯ জনের মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা

মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন পুরুষ, ২ জন মহিলা এবং একটি শিশু

নিউ মার্কেটের একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৯ জনের মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা

Image: SNS

তারাপীঠে একটি হোটেলে আগুন লাগার পর এবার  কলকাতার নিউ মার্কেটের (New Market) একটি হোটেলে আগুন লাগে।  নিউ মার্কটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের (Mirza Galib Street) একটি বহুতলে ভয়াবহ আগুন (Fire)  লাগে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন পুরুষ, ২ জন মহিলা এবং একটি শিশু।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বহুতলটির প্রায় প্রতিটি তলাতেই একটি করে হোটেল (Hotel) বা গেস্ট হাউস রয়েছে। ঘরগুলি খুবই ছোট এবং ভবনে ঢোকা ও বেরোনোর মূল পথও বেশ সরু। মঙ্গলবার রাতে যখন অধিকাংশ আবাসিক ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন তিনতলার একটি হোটেলে (Hotel) আগুন (Fire)  লাগে। আগুনের তীব্রতা খুব বেশি না হলেও গোটা হোটেলে (Hotel) ধোঁয়া ছড়িয়ে যায়। ফলে আবাসিকেরা বেরোনোর পথ খুঁজে পেতে সমস্যা হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় দমকলবাহিনী। সূত্রের খবর ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে কয়েকজন অচৈতন্য হয়ে পড়েন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। জানা গিয়েছে মঙ্গলবার রাত ২টোর আগে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলের তিনতলায় আগুন লাগে। ধোঁয়ায় ভরে যায় হোটেলের ঘরগুলি। আতঙ্কে আবাসিকেরা ছোটাছুটি শুরু করেন। যে হোটেলে আগুন লাগে তার একটি ভবন পরেই দমকলের সদর দপ্তর।  রাত ২টো ৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় দমকল।

খবর দেওয়া হয় নিউ মার্কেট থানার পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। হোটেলগুলি গলির মধ্যে হওয়ায় দমকলের গাড়ি বেশি ভিতরে ঢুকতে পারেনি। প্রথমে বাইরে থেকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয় পরে তাঁরা হোটেলে ভিতরে ঢুকে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। কীভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ফরেনসিক আধিকারিকরা।

হোটেলের (Hotel) আবাসিকদের একাংশের অভিযোগ, আগুন লাগার পর হোটেল (Hotel) কর্তৃপক্ষের কাউকে দেখা যায়নি। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না বলে তাঁদের দাবি। ভবনে কোনও আপৎকালীন বেরোনোর পথ ছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, কয়েক জন আবাসিক শৌচাগারে ঢুকে জানলা ভেঙে বেরোনোর চেষ্টা করেন। পরে দমকলকর্মীরা এসে একে একে ভবনের বাসিন্দাদের উদ্ধার করেন। জানা গিয়েছে ৬০ জন আবাসিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন:  তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও এক, গ্রেপ্তার হোটেল মালিকের বাবা, তল্লাশি চালছে পুকুরে

তবে তাঁদের মধ্যে অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, মৃতদের শরীরে দগ্ধ হওয়ার বা ঝলসে যাওয়ার চিহ্ন সেভাবে নেই। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, শ্বাসরোধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রামপুরহাট থেকে আসা দুই যুবক ওই রাতে ভবনের চারতলার একটি গেস্ট হাউসে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে খাওয়া সেরে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টো ১৫ মিনিট দুই মহিলার চিৎকারে তাঁদের ঘুম ভাঙে। দরজা খুলতেই ঘর ধোঁয়ায ভরে যায়। তাঁদের দাবি, ঘর থেকে বেরোনোর বারান্দাটি অত্যন্ত সরু এবং ধোঁয়ায় পুরোপুরি ঢেকে গিয়েছিল।

ভবনের একেবারে উপরের তলায় থাকা একটি পরিবারকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের এক মহিলার অভিযোগ, হোটেলগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার জন্য বারবার বলা হলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল হয়নি বলে তাঁর দাবি।

এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ওই হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলি চলছিল। হোটেলগুলির কাছে প্রয়োজনীয় দমকলের ছাড়পত্র ছিল কি না, ভবনটি বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি ছিল কি না এবং সরু ঘর ও বেরোনোর পথ নিরাপত্তাবিধি মেনে তৈরি হয়েছিল কি না- তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

আরও পড়ুন: তারাপীঠের একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুন, মৃত কমপক্ষে ৯ পুণ্যার্থী, গ্রেপ্তার হোটেল মালিক

বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠকের অভিযোগ, ভবনটি মূলত আবাসিক ব্যবহারের জন্য তৈরি হলেও বেআইনি ভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তাঁর আরও দাবি, হোটেলের ঘর বাড়ানোর জন্য কোথাও কোথাও পিলার কেটে জায়গা তৈরি করা হয়েছিল। যার ফলে ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কীভাবে আগুন লাগল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বহুতলে থাকা হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দেখুন: