• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 18 August, 2026

জঙ্গি-যোগের পর এবার জাল নথির চক্রে নজর কলকাতা পুলিশের

রাজ্যে সাম্প্রতিক একাধিক জঙ্গি-যোগ সন্দেহে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়াচ্ছে পুলিশ। কখনও রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স

জঙ্গি-যোগের পর এবার জাল নথির চক্রে নজর কলকাতা পুলিশের

Lalbazar Photo-SNS

রাজ্যে সাম্প্রতিক একাধিক জঙ্গি-যোগ সন্দেহে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়াচ্ছে পুলিশ। কখনও রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স, কখনও কলকাতা পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে একের পর এক অভিযুক্ত। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এবার জাল সরকারি নথি তৈরির চক্রের খোঁজে নেমেছে লালবাজারের গোয়েন্দারা।

কলকাতা পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি জাল করার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ওই নথির ভিত্তিতেই পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরির মতো কাজও হয়ে থাকতে পারে। এই চক্রে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোমবার তপসিয়া থেকে রানা রউফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে দাবি করা ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। তদন্তকারীদের দাবি, রানা রউফের বিদেশে পালানোর পরিকল্পনায় ইমরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। জাল ভোটার ও আধার কার্ডের মাধ্যমে পাসপোর্ট এবং ভিসা তৈরিতে সে সাহায্য করছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

এরপর ভাঙড়ের ঘটনাও তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সেখানে আল-কায়েদা-যোগের অভিযোগে জিন্নাতুল কিবরিয়া ও শফিক শেখ নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। পুলিশের দাবি, ‘মুঘল-এ-আজম’ এবং ‘জিহাদ-ই-সাবিলিল্লাহ’ নামে সমাজমাধ্যমের দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারে তারা যুক্ত ছিল। পাশাপাশি, ‘দাওয়াত-এ-ইসলাম’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্লিপার সেল গড়ে তোলার চেষ্টার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই দুই ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগও নড়েচড়ে বসেছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, অভিযুক্তরা কীভাবে বাংলায় এসেছিল, কারা তাদের আশ্রয় দিয়েছিল এবং কোন নথির ভিত্তিতে তারা ভারতে থাকার সুযোগ পেয়েছিল। সেই সব নথির সত্যতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, জাল সরকারি নথি তৈরির সঙ্গে কারা জড়িত এবং সেই নথির মাধ্যমে কেউ নাশকতার পরিকল্পনা করেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। ভোটার ও আধার কার্ড জালিয়াতি রুখতেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ভাঙড়, তপসিয়া থেকে ভবানীপুর—পরপর গ্রেপ্তারের ঘটনায় গোয়েন্দাদের নজর এখন জাল নথির গোটা নেটওয়ার্কের দিকে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জঙ্গি-যোগ রয়েছে কি না, থাকলে তার পরিধি কতটা, সেটাই এখন তদন্তকারীদের কাছে বড় প্রশ্ন।

এক ঝলকে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার

১২ আগস্ট, ২০২৬
বনগাঁ থেকে জঙ্গি-যোগ সন্দেহে রানা রউফ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।

৩ আগস্ট, ২০২৬
হাওড়া থেকে জঙ্গি-যোগ সন্দেহে আদিত্য সিং নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

১ আগস্ট, ২০২৬
জইশ-যোগের অভিযোগে আগে গ্রেপ্তার হওয়া হামিম মণ্ডলকে জেরা করে অর্পিতা সরকারের নাম জানতে পারে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। এরপর ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজ্যে থেকে সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তারের তালিকাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে জঙ্গি দমনের দিকে রাজ্যের পুলিশের নজর কতটা প্রখর। তারই মধ্যে এই জাল নথি তৈরির চক্র ভাঙার এই পদক্ষেপ নেওয়াতে মনে করা হচ্ছে বাংলার বুক থেকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ সমূলে উৎখাত করাই এই মুহূর্তে পুলিশের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য।