• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 18 August, 2026

মসজিদে মাইক খোলা নিয়ে করা জনস্বার্থ মামলা খারিজ

রাজ্য জুড়ে মসজিদে মাইক খোলা নিয়ে করা জনস্বার্থ মামলা খারিজ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী

মসজিদে মাইক খোলা নিয়ে করা জনস্বার্থ মামলা খারিজ

Image: SNS

মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার খুলে দেওয়ার জন্য পুলিশ ‘মৌখিক নির্দেশ’ দিয়েছিল এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়।

মামলার শুরুতেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সাফ জানিয়ে দেন, মসজিদের লাউডস্পিকার খুলে দেওয়ার জন্য পুলিশ কোনও নির্দেশ দেয়নি। এমনকি এই নিয়ে কোনও বৈঠকও হয়নি বলে আদালতকে জানান তিনি। তাঁর দাবি, মামলাটি মূলত সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এবং মৌখিক অভিযোগের উপর ভিত্তি করে দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে কোনও নথিও নেই। কোন কর্তৃপক্ষ এমন নির্দেশ দিয়েছিল, তারও নির্দিষ্ট উল্লেখ নেই।

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র প্রশ্ন তোলেন, কোনও ইমাম, মসজিদ কমিটির সদস্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতে এসে এমন অভিযোগ করেছেন কি না। তাঁর দাবি, পুলিশ মসজিদে গিয়ে লাউডস্পিকার খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে—এই অভিযোগ কার্যত ভিত্তিহীন। ফলে জনস্বার্থ মামলাটিও গ্রহণযোগ্য নয়।

রাজ্যের এই সওয়ালের পাল্টা দেন মামলাকারীর আইনজীবী তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “জনস্বার্থ মামলা কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আইনি লড়াই নয়।” জনস্বার্থ মামলার ক্ষেত্রে দেওয়ানি মামলার মতো প্রতিটি অভিযোগের সঙ্গে সমস্ত তথ্যপ্রমাণের খুঁটিনাটি দাখিল করা বাধ্যতামূলক নয় বলেই দাবি করেন তিনি।

কল্যাণের আরও সওয়াল, সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত ডেসিবেল সীমার মধ্যে লাউডস্পিকার ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু শব্দের মাত্রা মাপার মতো পরিকাঠামো বা প্রশিক্ষিত কর্মী না থাকলে পুলিশ কী ভাবে শব্দমাত্রা নিয়মবহির্ভূত বলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে? তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে একটি নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে—লিখিত নোটিস নয়, ‘মৌখিক নির্দেশ’, তারপর পুলিশ গিয়ে লাউডস্পিকার খুলে দিচ্ছে।

শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী আরও দাবি করেন, মসজিদ কমিটিগুলির সঙ্গে পুলিশ বৈঠকও করেছে। যদিও রাজ্য সেই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। বিষয়টি বৃহত্তর জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত বলেও আদালতে সওয়াল করেন কল্যাণ।

অতিরিক্ত হলফনামা দাখিলের অনুমতিও চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আদালত জানিয়ে দেয়, মামলাটি ওই দিনই সিদ্ধান্তের জন্য নেওয়া হয়েছে। এরপর উভয় পক্ষের সওয়াল শেষ হলে ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়।

ফলে মসজিদের লাউডস্পিকার নিয়ে ‘মৌখিক পুলিশি নির্দেশ’-এর অভিযোগ ঘিরে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় আপাতত ইতি পড়ল। রাজ্যের অবস্থান, এমন কোনও নির্দেশই দেওয়া হয়নি এবং অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি বা ভিত্তি না থাকায় মামলাটিও গ্রহণযোগ্য নয়। তবে মামলাকারী পক্ষ উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে কি না, তা নিয়েই এখন আইনজীবী মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।