শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hassina) বাংলাদেশ না ফেরানো পর্যন্ত সে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman )ভারতে যাবেন না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের সরকার। রবিবার বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের এক আধিকারিক এ কথা জানিয়েছেন। এর ফলে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে বাড়তে থাকা টানাপোড়নের আবহে তা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের কোটা বিরোধী আন্দোলনের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) । ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে এসে আশ্রয় নেন তিনি। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যেই টানাপোড়েন শুরু হয়। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের দেওয়া হয়েছে। তাঁকে দেশে ফেরাতে বার বার দিল্লির কাছে আর্জি জানিয়ে এসেছে ঢাকা।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে ভারতীয় শিল্পপতির কারখানায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিক এ কে শহিদুল করিম তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে জল্পনা খারিজ না করলেও জানিয়েছেন, সফরের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা দরকার। তাঁর কথায়, শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) -সহ অন্য পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পনের বিষয়টি এখনও ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান (Tarique Rahman) এখনও ভারত সফরে আসেননি। ইতিমধ্যে তিনি মালয়েশিয়া ও চিন সফর করেছেন। বাংলাদেশের কোনও নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর সাধারণত ভারতে করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে তা হয়নি।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতেরর হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi) তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপরই দুই দেশের সম্পর্কে বরফ গলতে পারে বলে সম্ভাবনা তৈরি হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর (Tarique Rahman) ভারত সফরের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে জল্পনা শুরু হয়। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের আধিকারিকদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে।
তবে শহিদুল করিমের অভিযোগ, শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। তিনি বলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরেও হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া প্রক্রিয়া জটিলতা সৃষ্টি করেছে।
এদিকে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) চলতি মাসেই দাবি করেছেন, ডিসেম্বর মাসে তিনি (Sheikh Hasina) বাংলাদেশে ফিরবেন। প্রয়োজনে জেলেও যেতে হতে পারে তাঁর। তবু দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসবেন না বলে জানিয়েছেন।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি অনুসরণ করবে বলেও জানিয়েছেন শহিদুল করিম। তাঁর বক্তব্য, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে ভারত-সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা।
দেখুন:




