নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় দাপুটে কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলে আনিসুর রহমান এবং আবু সুফিয়ান রহমানকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস কালা দিবসের ডাক দিয়েছে। এই খুনের ঘটনার পিছনে কে বা কারা আছে তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। এখন রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হয়েছে। বিজেপি সরকার এসব অপরাধের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার কাজ চলছে। সেখানে এমন ঘটনা নিঃসন্দেহে আতঙ্কের। এই আবহে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বিস্ফোরক দাবি করলেন।
এদিকে আনিসুর রহমান প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য এবং নদিয়া জেলা কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আর তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান আইন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। কংগ্রেস নেতা এবং তাঁর ছেলেকে প্রথমে বারবার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করে আততীরা। তারপর বাবা ও ছেলেকে গুলি করেই চম্পট দেয় তারা। গুলির শব্দ শুনেই স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। তড়িঘড়ি করে বাবা এবং ছেলের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে বেথুয়াডহরী স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরেই চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে এই ঘটনা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে জেলায়। যা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। এসব ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলেই তাঁর মত। রবিবাসরীয় সকালে প্রাতঃভ্রমণ করতে আসেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তাঁকে বেশ কয়েকটি ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষের কড়া বার্তা, ‘এই ধরনের হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। ব্যবস্থা নেবে পুলিশ-প্রশাসন। পুরনো ঝগড়া যেগুলি রয়েছে, এতবছরের হিংসার রাজত্বে যেগুলি দেখে এসেছে, সেগুলি রয়ে গেছে। অনেক দাগী লোক নেতা হয়ে গিয়েছে। এমএলএ, এমপি হয়ে গিয়েছে। তাদের পুরনো রেকর্ড থেকেই এই সমস্ত ডিস্টার্ব হচ্ছে। ঠিক সময়ে এর সমাধান হবে।’
তাছাড়া সায়গল হোসেন প্রসঙ্গেও রবিবার মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী। অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী ছিলেন সায়গল হোসেন। তাঁর বোলপুরের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ধনসম্পত্তি। একটানা জেরার পরেই শনিবার রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টানা ২২ ঘণ্টা সায়গলকে জেরা করেছিল পুলিশ। বোলপুরে বাইপাস সংলগ্ন ফ্ল্যাট থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সায়গলের এই কাণ্ড ও গ্রেপ্তার নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘যে ক্ষমতায় ছিল, তার বেশ কিছু হ্যান্ডলার ছিল। সমস্ত চ্যানেল তারা তৈরি করে দিত। সবাইকে তারা ভাগ দিত। তাই আসল অপরাধীদের ধরতে তাদের পর্যন্ত পৌঁছনো প্রয়োজন। তাদের পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে, আরও ধরা পড়বে।’




