তৃণমূল জমানা শেষ লগ্নে একের পর এক নেতাদের ‘গুপ্তধন’ সামনে এসেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, বেশিরভাগেরই কয়েকশো কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। বুধবার এই বিপুল সম্পদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কাঠগড়ায় তুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সব্যসাচী দত্ত, অনুব্রত মণ্ডল, সুজিত বসু এবং সম্প্রতি টুলু মণ্ডল। এইসব ব্যক্তিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ, কোটি কোটি টাকা থেকে সোনার গয়না সবই দেখেছেন রাজ্যের মানুষ। তেমন কিছু না করে এমন বিপুল সম্পদ যে বানানো যায় সেটা শিখিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে দাবি করলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী।
এদিকে মন্ত্রীর বান্ধবীর বাড়িতে টাকার পাহাড় রীতিমতো চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিল। জেল খাটতে হয়েছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়-অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে। অনুব্রত মণ্ডলও জেল খেটেছিলেন। এখন তাঁর ঘনিষ্ঠ টুলু মণ্ডলের বিপুল পরিমাণ সম্পদ তথা টাকা দেখতে পেয়েছেন রাজ্যের মানুষ। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বাংলায় কিছু না করেও কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি করা যায়, এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই শিখিয়েছেন।’ এখন রাস্তায় বের হলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করা হচ্ছে। কাদা থেকে চটি ছোঁড়া হচ্ছে। এমনকী চোর চোর স্লোগানও উঠেছে। সেখানে এই মন্তব্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে খোঁচা বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ক্ষমতায় থাকাকালীন এবং ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরও একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি থেকে দুর্নীতি-সহ নানা অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। তার জেরে জেল যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এই টুলু মণ্ডল সাম্প্রতিক সংযোজন। তা নিয়ে বুধবার প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে তৃণমূল নেতাদের পাহাড় প্রমাণ সম্পত্তি নিয়েই দিলীপ বলেন, ‘বাংলার মানুষের এত সম্পত্তি কেউ কোনওদিন দেখেছেন? আমরা এতদিন জানতাম বড়লোক মানে ব্যবসায়ী, মারোওয়ারিরা। কিন্তু এদের তো দেখছি সবারই কোটি কোটি টাকা। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই শিখিয়েছেন যে কিছু না করেও বড়লোক হওয়া যায়।’
তাছাড়া টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, একাধিক অ্যাকাউন্টে ৯৩ কোটি টাকা ছিল টুলুর। নগদ পাওয়া গিয়েছে ৫৩ লক্ষ টাকা। আর রয়েছে ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো ও ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম। ৮৩টি ট্রাক এবং ডাম্পার। বিএমডব্লিউ, অডি মিলিয়ে মোট ২৪২টি গাড়ি আছে। টুলুর মোট ২১টি সম্পত্তি রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ৭টি বাড়ি, ১টি ফার্মহাউস, ২টি পেট্রল পাম্প, ১টি পার্কিং, ২টি ক্রাশার। সব মিলিয়ে কয়েকশো কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক তিনি। আর টুলু কেষ্টর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় অনুব্রতকে নিয়ে দিলীপ ঘোষের প্রশ্ন, ‘ওই যে কেষ্ট মণ্ডল, কোনওদিন কোনও পদেও ছিল না। তাঁর নাকি সাড়ে ৫০০ কোটির সম্পত্তি, কীভাবে হলো?’




