ফুটবল থেকে আপাতত দূরে থাকবেন লিওনেল মেসি। অনির্দিষ্টকালের জন্য ফুটবল থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেই আপাতত সব রকম পেশাদার ফুটবল থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখছেন ৩৯ বছরের মেসি—এমনই দাবি আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে।
গত ৭ অগস্ট ৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন মেসির বাবা জর্জ। দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং সন্তানদের নিয়ে আর্জেন্টিনায় ফিরে যান মেসি। ৯ অগস্ট রোজারিও-তেই হয় জর্জের শেষকৃত্য।
বাবার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক শুধু বাবা-ছেলের ছিল না। জর্জ ছিলেন তাঁর দীর্ঘ দিনের এজেন্ট এবং কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শদাতাও। বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সঁ জরমঁ এবং পরে ইন্টার মায়ামিতে যাওয়ার সময়ও মেসির পেশাদার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর বাবার।
মেসি কবে আবার মাঠে ফিরবেন, তার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও জানা যায়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর বর্তমান ক্লাব ইন্টার মায়ামি তাঁকে ফেরার ব্যাপারে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। অর্থাৎ, কখন আবার আমেরিকায় ফিরে ক্লাবের হয়ে খেলবেন, সেই সিদ্ধান্ত মেসিই নেবেন।
মেসি বা তাঁর পরিবার এখনও বাবার মৃত্যুর পর কোনও বিস্তারিত বিবৃতি দেয়নি। তবে জর্জের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে মেসির ছোটবেলার ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ।
ক্লাবের তরফে বলা হয়েছে, ‘৬৮ বছর বয়সে রোজারিও শহরে প্রয়াত জর্জ মেসিকে গভীর দুঃখ ও শোকের সঙ্গে বিদায় জানাচ্ছে ক্লাব আতলেতিকো নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ।’
তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ক্লাব আরও বলেছে, ‘জর্জ ছিলেন সেই স্তম্ভ এবং সেই মানুষ, যিনি দৃষ্টিভঙ্গি, কঠোরতা এবং ভালবাসা দিয়ে তাঁর স্ত্রী সেলিয়া কুচ্চিত্তিনির সঙ্গে মিলে সর্বকালের সেরা ফুটবলারের কেরিয়ারকে গড়ে তুলেছিলেন। মালভিনাসে লিওনেলের শুরু থেকে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছনো পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর নিরন্তর সঙ্গ এবং নেপথ্যের নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।
মেসির বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিউয়েলসের বার্তা, ‘মেসিকে এই ক্লাবের রং ভালবাসতে শেখানোর জন্য ধন্যবাদ। এই কঠিন সময়ে সেলিয়া, লিওনেল, রদ্রিগো, মাতিয়াস, মারিয়া সোল এবং তাঁদের সমস্ত প্রিয়জন ও ঘনিষ্ঠ মানুষকে নিউয়েলস পরিবার ভালবাসায় জড়িয়ে ধরছে।’
বিশ্বকাপের সময়ও বাবার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন মেসি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের পর তাঁকে আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদতেও দেখা গিয়েছিল। ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে সময়টা তাঁর জন্য আবেগের ছিল বলে জানিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন মেসি। তবে ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় আর্জেন্টিনার। বিশ্বকাপের পর ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে ফিরে সম্প্রতি লিগ কাপের ম্যাচে সান লুইসের বিরুদ্ধে জোড়া গোলও করেছিলেন তিনি।
তবে বাবার মৃত্যুর পর সেই ফুটবল-ব্যস্ততা আপাতত থামিয়ে দিলেন মেসি। এখন তাঁর কাছে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরিবার। কবে আবার তাঁকে ফুটবল মাঠে দেখা যাবে, তার উত্তর আপাতত অজানা।




