• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 11 August, 2026

মার্কিন আদালতে বড় জয় গৌতম আদানির

বিরাট স্বস্তি পেলেন গৌতম আদানি। সম্প্রতি  মার্কিন আদালত গৌতম আদানির বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিয়েছে।

মার্কিন আদালতে বড় জয় গৌতম আদানির

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বিরাট স্বস্তি পেলেন গৌতম আদানি। সম্প্রতি  মার্কিন আদালত গৌতম আদানির বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিয়েছে। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া এই আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের আবেদন মেনে নেন ব্রুকলিনের ডিস্ট্রিক্ট বিচারক নিকোলাস গারাউফিস।

গৌতম আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, ভারতে একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য তিনি ভারতীয় আধিকারিকদের ঘুষ দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে এই নিয়ে মিথ্যা তথ্য পেশ করেছিলেন। যদিও শুরু থেকেই আদানি গ্রুপ এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিচারক গারাউফিস স্বীকার করেন যে, মামলা চালানোর বিষয়টি বিচার বিভাগের নিজস্ব এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে, তবে যেভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটরদের বাদ দিয়ে আদানির আইনজীবীদের সাথে সরাসরি কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অস্বাভাবিক। রায়ে তিনি লেখেন, ‘মামলা খারিজের এই সিদ্ধান্তের মধ্যে কিছু অনিয়ম ও উদ্বেগজনক বিষয় রয়ে গেছে।’  আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।’

 

 

গৌতম আদানি মার্কিন এসইসি-কে ৬ মিলিয়ন ডলার এবং তাঁর ভাইপো সাগর আদানি ১২ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছেন। পাশাপাশি, ইরান সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি মেটাতে আদানি এন্টারপ্রাইজ মার্কিন ট্রেজারিকে ২৭৫ মিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হয়েছে।

বর্তমানে আদানি গোষ্ঠী ভারতের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে উল্কাগতিতে উত্থান হয়েছে তাদের। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদানি গোষ্ঠী নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। সেই সঙ্গে দেশের একাধিক রাজ্যের বিমানবন্দর পরিচালনার ভারও রয়েছে তাদের উপরে।

এদিকে মামলা খারিজের পিছনে আদানি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বিপুল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা ছড়িয়েছিল। বিশেষ করে ৯৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির পরই মামলা খারিজ হয়েছে বলে একটি দাবি সামনে আসে। তবে এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই এবং মামলাটি খারিজের সঙ্গে ওই বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির সরাসরি সম্পর্ক থাকার তথ্যও মেলেনি।

ফলে আপাতত মার্কিন আদালতের এই সিদ্ধান্ত আদানি গোষ্ঠীর জন্য বড় আইনি স্বস্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে মামলাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক লেনদেন এবং মার্কিন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংক্রান্ত প্রশ্নগুলি এখনও শিল্পমহলে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।