ভারতীয় ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের দরজা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং সেই দরজায় নিজেই কড়া নাড়লেন ভুবনেশ্বর কুমার। বয়স ৩৬ পেরিয়েছে, জাতীয় দলের বাইরে বেশ কিছু দিন। কিন্তু বল হাতে এখনও যে তিনি ফুরিয়ে যাননি, তার প্রমাণ দিয়েছেন সাম্প্রতিক আইপিএলে। এ বার নিজেই জানিয়ে দিলেন, ভারতীয় দলে ডাক এলে তিনি তৈরি। এমনকি ২০২৭ বিশ্বকাপে সুযোগ পেলেও আপত্তি নেই তাঁর।
ভুবনেশ্বরের কথায়, ‘আমি একশো শতাংশ তৈরি। যদি নির্বাচকেরা মনে করেন আমি যথেষ্ট ভাল এবং আমাকে সুযোগ দেওয়া উচিত, তা হলে আমি অবশ্যই তৈরি থাকব’। তবে জাতীয় দলে ফেরার বিষয়টি নিয়ে তিনি এখন আর বাড়তি চাপ নিতে চান না। সিদ্ধান্তটা নির্বাচকদের উপরই ছেড়ে দিয়েছেন ভারতীয় পেসার।
কিছু দিন আগেই তাঁকে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছিল। গত আইপিএলে আরসিবি-র হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন ভুবনেশ্বর। ২৮টি উইকেট নিয়ে দলের টানা দ্বিতীয় আইপিএল খেতাব জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। সেই পারফরম্যান্সের পরেই প্রশ্ন উঠেছিল—তবে কি আবার সাদা বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভুবিকে দেখা যেতে পারে?
বিশেষ করে ২০২৭ বিশ্বকাপ হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জ়িম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ায়। দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশে ভুবনেশ্বরের সুইং এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিং ভারতের জন্য কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকেরা। জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের কয়েক জনও তাঁকে ফেরানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে শেষ সিদ্ধান্ত নির্বাচকদেরই।
ভুবনেশ্বর অবশ্য প্রত্যাবর্তনের জন্য মরিয়া হয়ে বসে নেই। তাঁর বক্তব্য, এখন ক্রিকেট খেলাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি আইপিএল এবং ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছি কারণ আমি ক্রিকেট ভালবাসি। ভারতীয় দলের হয়ে আমি খেলেছি। আবার সুযোগ পেলে অবশ্যই ভাল লাগবে,’ বলেছেন তিনি।
জাতীয় দলের বাইরে থাকার সময়টাও অন্য ভাবে দেখছেন ভুবি। তাঁর মতে, এখন আর জাতীয় নির্বাচকদের ডাকের কথা চিন্তা করে ক্রিকেট খেলেন না। বরং ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আইপিএলে নিয়মিত খেলে নিজেকে প্রস্তুত রাখাই লক্ষ্য। উত্তরপ্রদেশের টি২০ লিগেও তিনি খেলবেন এবং সেখানে পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়ারও কথা তাঁর।
ভুবনেশ্বরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অবশ্য কম নয়। ভারতের হয়ে তিন ফরম্যাটেই খেলেছেন তিনি। নতুন বলে সুইং, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ এবং ডেথ ওভারে বৈচিত্র—দীর্ঘ সময় ভারতীয় পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা ছিলেন এই ডানহাতি পেসার।
তাই প্রশ্নটা এখন নির্বাচকদের সামনে—বয়সকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, না কি সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতাকে? ভুবনেশ্বর নিজের কাজটা করে রেখেছেন। তাঁর বার্তা স্পষ্ট—ডাক এলে তিনি তৈরি। বাকিটা নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত।




