• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 10 August, 2026

চিনির দাম আকাশছোঁয়া, ক্ষোভে লাগাম টানতে আখের রস থেকে ইথানল তৈরি বন্ধের ভাবনা কেন্দ্রের

চিনির রেকর্ড দাম নিয়ন্ত্রণে আখ থেকে ইথানল উৎপাদনে লাগাম টানার ভাবনা কেন্দ্রের, পশ্চিমবঙ্গেও হেঁশেলের খরচে পড়তে পারে এর সরাসরি প্রভাব।

চিনির দাম আকাশছোঁয়া, ক্ষোভে লাগাম টানতে আখের রস থেকে ইথানল তৈরি বন্ধের ভাবনা কেন্দ্রের

Sugar Price Hike For Ethanol (Magnific)

গণেশ চতুর্থী থেকে দুর্গা পুজো পেরিয়ে দীপাবলি। লম্বা উৎসবের মরসুম দোরগোড়ায়। তার আগেই হেঁশেলের বাজেটের জেরে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। চিনির দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে, আর তার আঁচ থেকে বাদ যায়নি পশ্চিমবঙ্গও। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার আখ থেকে জৈব জ্বালানি ইথানল (ethanol) তৈরিতে রাশ টানার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। লক্ষ্য একটাই, বাজারে চিনির জোগান বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।

কী পরিকল্পনা

সরকারি ও শিল্পমহলের নানা বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন অক্টোবর মাস থেকে শুরু হতে চলা নতুন মরসুমে চিনিকলগুলিকে আখের রস (cane juice) এবং বি-হেভি মোলাসেস (B-heavy molasses) থেকে ইথানল উৎপাদন বন্ধ রাখতে বলা হতে পারে। এর বদলে সি-হেভি মোলাসেসের (C-heavy molasses) মতো তুলনামূলক কম চিনিযুক্ত উপজাত থেকেই ইথানল তৈরির অনুমতি মিলবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকের মতো দেশের বৃহত্তম আখ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলিতে কম বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই আখের ফলনে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে চলেছে আগামী মরসুমের চিনি উৎপাদনেও। আগামী মাসের মধ্যেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

চিনি রপ্তানির (sugar export) উপর ইতিমধ্যেই নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ব্যবসায়ীদের চিনি মজুত করার উপরেও সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। এবার ইথানল উৎপাদনে লাগাম টেনে চিনি আমদানির পথ এড়াতে চাইছে সরকার। শিল্পমহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপে চিনিকলগুলির বিশেষ ক্ষতি হবে না, কারণ ইথানলের বদলে চিনি বিক্রি করেই বেশি লাভ থাকছে মিলগুলির হাতে।

দেশজুড়ে এখন যে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত (ethanol blending) পেট্রল বিক্রি হয়, তার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অবশ্য টান পড়তে পারে। সেই ঘাটতি পূরণে ভুট্টা ও চাল থেকে ইথানল উৎপাদন বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের হেঁশেলে প্রভাব

গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন শহরে চিনির খুচরো দাম ৮ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা লেগেছে পশ্চিমবঙ্গেই, যেখানে প্রতি কিলোগ্রাম চিনির দাম ৪৯ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকায় পৌঁছেছে। উৎসবের মরসুমে মিষ্টি তৈরির চাহিদা তুঙ্গে ওঠে বাংলায়, ফলে চিনির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে রাজ্যের মিষ্টি ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ গৃহস্থের হেঁশেলে। এল নিনোর (El Niño) প্রভাবে চলতি মরসুমেও চিনির উৎপাদন কমতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা, যার জেরে দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর মরসুমে মিষ্টির দামেও ছেঁকা লাগতে পারে বলে মনে করছে ব্যবসায়ী মহল।

কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে বাজারে চিনির জোগান কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা। তবে তার প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে আসন্ন মরসুমের ফলন ও সরকারি সিদ্ধান্তের উপরেই।