• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 10 August, 2026

‘মানুষের অধিকার আছে নিজের রাগ প্রকাশ করার’, হালিশহরের ঘটনা নিয়ে দাবি দিলীপের

হালিশহরের ঘটনা নিয়ে এখন রাজ্য-রাজনীতি উত্তপ্ত। কারণ সব বিরোধী রাজনৈতিক দলই এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে

‘মানুষের অধিকার আছে নিজের রাগ প্রকাশ করার’, হালিশহরের ঘটনা নিয়ে দাবি দিলীপের

Panchayat Minister Dilip Ghosh Photo-SNS

হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। ইট থেকে শুরু করে কাদা, চটি ছোঁড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। দলীয় কর্মী পুলিশ হেপাজতে মারা গিয়েছিলেন বলেই তাঁর বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন। সেখানে যা ঘটেছিল তার প্রতিবাদে এবার পথে নামতে চলেছে কালীঘাট তৃণমূল। সোমবার সেখানে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এই গোটা ঘটনা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কাঠগড়ায় তুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আর নাম জড়ালেন কুণাল ঘোষেরও।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন হালিশহরে গিয়েছিলেন তখন রাস্তার দু’পাশ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে ‘চোর’, ‘ডাকাত রানি’ স্লোগান। আর এদিন এই বিষয়ে বলতে গিয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘ডাকাত রানি মন্তব্যের অনুপ্রেরণা কুণাল ঘোষেরই! কুণাল ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাকাত রানি বলেছিলেন তখন আপনারা মিডিয়া তাঁকে কিছু বলেননি। গতকাল সাধারণ মানুষ ওঁকে ডাকাত রানি বললে সেটা দোষ হয়ে গেল? কুণাল ঘোষ ওঁকে ডাকাত রানি বলে দলে প্রমোশন পেল। মুখপাত্র হলো। সাধারণ সম্পাদক হলো। পরে বিধায়ক হয়ে গেল। সেখান থেকে পাবলিক অনুপ্রেরণা পেয়ে গতকাল ডাকাত রানি বলেছে।’

হালিশহরের ঘটনা নিয়ে এখন রাজ্য-রাজনীতি উত্তপ্ত। কারণ সব বিরোধী রাজনৈতিক দলই এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই ঘটনা যে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। এই ঘটনা নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলা ঘটনাকে সাধারণ মানুষের ‘ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’। আমি নিজে ইট খেয়েছি। আমার গায়ে এখনও দাগ আছে। আমার বহুবার গাড়ি ভেঙেছে। দুটো ডিম খেয়েছে বলে কি পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি রসাতলে চলে গিয়েছে? মানুষের অধিকার আছে নিজের রাগ প্রকাশ করার। কর্মীদের ওপর এত অত্যাচারের পর আমাকে যেন কেউ ‘মানবতা’ বা ‘সৌজন্যের’ পাঠ দিতে না আসে।’

তাছাড়া রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্তা করা নিয়ে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, এত চুরি করেছেন চোর তো শুনতেই হবে। বিক্ষোভের ঘটনার প্রবল সমালোচনা করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, এটা করা যায় না। এটা বাংলার রীতি নয়। তবে এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির যোগ নেই। আর অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৫ বছর ধরে অনেক ভুল করেছেন, নারীদের সম্মান রক্ষা করতে পারেননি বা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন। এমনকী অভয়ার মৃত্যুর দিনটিতেও তিনি সঠিক বিচার দিতে পারেননি। কিন্তু তাই বলে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ছোঁড়া, ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।