অভয়া কাণ্ডের পরে ঘটে গিয়েছে প্রায় ২ বছর। আজ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার দুই বছর পর একটি বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিহত চিকিৎসকের মায়ের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ১৯৫২ সালের ‘স্পেশাল কমিশন অ্যাক্ট’ বা বিশেষ কমিশন আইনের আওতায় সমগ্র কাণ্ডের পুনর্তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
এছাড়াও, নির্যাতিতার শবদাহ প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়ম ও আইনি গাফিলতির অভিযোগে রাজ্য পুলিশের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় পৃথক মামলা রুজু করে জড়িতদের অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, নির্যাতিতার শবদাহ প্রক্রিয়ায় বেআইনি কাজ করা হয়েছিল। শ্মশানের নির্ধারিত খরচ পরিবারের লোক দেয়নি, এমনকি মৃতার পরিবারের কোনও ক্লোজ রিলেটিভ বা নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এই গুরুতর বেআইনি কর্মকাণ্ডের পেছনে সরাসরি প্রভাবশালী যোগের দাবি তুলে তিনি বলেছেন, “নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখার্জি মিলে এই পুরো কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন।”
স্মরণসভায় উপস্থিত ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারকে মঞ্চ থেকেই অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শ্মশানের এই অনিয়মের অংশে যেহেতু সিবিআই তদন্তের সুযোগ নেই, তাই রাজ্য পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করে আইনি পদক্ষেপ করবে।
বক্তব্যে আবেগপ্রবণ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “আমরা অভয়া বোনকে ভুলিনি! রাজ্যবাসী আমাদের জয়ীই করেছেন তাঁর ন্যায়বিচার ছিনিয়ে আনার জন্য। প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার মধ্যে দাঁড়িয়েও আমি আবার বলছি—আমি কমিটেড, আমি কমিটেড, আমি কমিটেড। বোনের বিচারের জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।”




