• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 9 August, 2026

দেশ বিভাজন দিবস পালনের ডাক দিলেন রাজ্যপাল, লোকভবন জারি করল নির্দেশিকা

লোকভবনের পক্ষ থেকে রবিবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশভাগের চরম মাশুল গুনতে হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গকে

দেশ বিভাজন দিবস পালনের ডাক দিলেন রাজ্যপাল, লোকভবন জারি করল নির্দেশিকা

Governor RN Ravi Photo-SNS

১৯৪৭ সালের দেশভাগের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিকে স্মরণ করে আগামী ১৪ আগস্ট রাজ্যের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেশ বিভাজন দিবস’ পালনের আহ্বান জানালেন রাজ্যপাল তথা আচার্য আর এন রবি। রবিবার লোকভবনের পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশিকায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের অধীনস্থ কলেজগুলিতে এই বিশেষ দিবস পালনের বার্তা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ আগস্ট দেশ স্বাধীনতা দিবস পালন করবে। তার আগে দেশ বিভাজন দিবস পালনের ডাক দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল।

এদিন ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘অন্ধকার অধ্যায়’ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে অবহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পালিত হোক দেশ বিভাজন দিবস। দেশভাগের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ। লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুহারা হয়েছিলেন, প্রাণ হারিয়েছিলেন। তার ফলে বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক পরিসর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই অতীতের ক্ষত হয়তো এত বছরেও মেরামত করা যায়নি। তাই শুধু ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ যেমন উদযাপন হয়, তেমন তার আগে দেশভাগের যন্ত্রণাও উপলব্ধি করা উচিত বলে মনে করছেন রাজ্যপাল রবীন্দ্রনাথ রবি।

লোকভবনের পক্ষ থেকে রবিবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশভাগের চরম মাশুল গুনতে হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গকে। ওই ঐতিহাসিক বিপর্যয় এবং ভারতের ইতিহাসের এই ‘অন্ধকার অধ্যায়’ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে ওয়াকিবহাল করা অত্যন্ত প্রয়োজন। একইসঙ্গে দেশভাগের শিকার হওয়া মানুষজনদের স্মরণ করার পাশাপাশি যে সমস্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাঞ্জাব এবং অবিভক্ত বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করে পৃথক পাকিস্তান রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল এবং ১৫ আগস্ট স্বাধীন হয় ভারত। তাই রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে রাজ্যপালের পরামর্শ, ১৪ আগস্ট পালন করা হোক ‘দেশ বিভাজন দিবস’।

তাছাড়া ৯ থেকে ১৭ আগস্ট পালিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসূচি ‘হর ঘর তেরঙ্গা।’ রাজ্যের নানা ব্লকে ব্লকে ৭০ হাজার জাতীয় পতাকা বিলি করবে সরকার। তার আগে ১০ আগস্ট পালিত হবে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ মেগা কর্মসূচি। ওইদিন আকাশবাণী ভবনের সামনে নেতাজি মূর্তি থেকে বিড়লা তারামণ্ডলের সাত নম্বর গেট পর্যন্ত মিছিল হবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে। বিকাশ ভবনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্মসূচি নির্ধারিত হলেও বাস্তবায়নের বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে। ইতিপূর্বে নানা কলেজের সঙ্গে বৈঠক করে পড়ুয়াদের অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।