আগামী ১৩ ও ১৪ আগস্ট ‘দেশভাগ স্মরণ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের চিঠি পেয়ে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ের সচিব ড. সৌমিত্র মোহন এই বিষয়ে রাজ্যজুড়ে সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। তার আগে এদিন ৯ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্রে দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন হয়েছিল এই দিনেই। এবার এই আন্দোলনের ৮৪তম বার্ষিকী। তাই এই আন্দোলনকে স্মরণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে কুর্নিশ জানিয়ে সমাজমাধ্যমে বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে নবান্ন থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশভাগের যন্ত্রণাদায়ক দিনগুলি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলির আত্মত্যাগের স্মৃতিকে জীবিত রাখতে জেলা প্রশাসনকে উপযুক্ত অনুষ্ঠান এবং কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে। স্থানীয় স্টেকহোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রত্যেকটি জেলায় তিনটি প্রধান কর্মসূচি পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ‘দেশভাগ স্মরণ দিবস’ উপলক্ষ্যে। আর রবিবার ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আজ আমরা ১৯৪২ সালের ঐতিহাসিক ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৮৪তম বার্ষিকী পালন করছি। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার সূর্যোদয় ঘটাতে সমগ্র জাতি এক বলিষ্ঠ কণ্ঠে ধ্বনি তুলেছিল সেই মন্ত্র—করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে। সেই সংগ্রামে দেশের হাজার হাজার বীর সন্তান আত্মত্যাগ করেছিলেন। তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম স্বাধীন ভারতে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারে।’
Today, we observe the 84th anniversary of the historic ‘Quit India’ Movement of 1942.
To shatter the chains of subjugation and bring forth the Dawn of Freedom, the entire Nation rose in a single, powerful voice with the immortal cry: “Do or Die” (Karo Ya Maro).
During this… pic.twitter.com/zCgV6wTeOl— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) August 9, 2026
অন্যদিকে আগামী ১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় জেলা সদরের উপযুক্ত জায়গায় মোমবাতি মিছিলের আয়োজন করা হবে। এই মিছিলে সরকারি আধিকারিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকরা অংশ নেবেন। এমনকী আগামী ১৩ এবং ১৪ আগস্ট জেলার প্রধান প্রধান জনবহুল এলাকায় দেশভাগের ইতিহাস, মানবিক প্রভাব, ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প এবং আর্কাইভ ছবি-নথি নিয়ে প্রদর্শনী করার আয়োজন করতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্কুল পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা যায় তার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায় বলে সূত্রের খবর। আর ভারত ছাড়ো আন্দোলন নিয়ে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘৯ আগস্টের এই তাৎপর্যপূর্ণ দিনে, আমি সেই সকল সাহসী স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাঁদের অতুলনীয় বীরত্ব ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগই আজকের এই স্বাধীন ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। যা আমরা পরম শ্রদ্ধায় লালন করি।’
তাছাড়া এই দিনটিতে দেশে জরুরি অবস্থার সময়ে জেলে থাকা ব্যক্তিদের সম্মান জানাচ্ছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী এদিন নিজে তাঁদের লোকতন্ত্র সেনানি নামক বিশেষ সম্মান দিচ্ছেন। সাম্মানিক হিসেবে মাসিক ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আর মেডিক্যালের জন্য হাজার টাকা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হয়েছে। এমনকী সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ওষুধ এবং রাজ্যের রাষ্ট্রায়ত্ত গণপরিবহণে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধাও পাবেন তাঁরা। তাঁদের পরিচয়পত্র দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনও উপভোক্তার মৃত্যু হলে তাঁর স্বামী বা স্ত্রীও নির্ধারিত এই সুবিধাগুলি পাবেন। আর দেশভাগ স্মরণ দিবস উপলক্ষ্যে নবান্ন থেকে যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, এই স্মারক কর্মসূচি আয়োজন করার জন্য প্রত্যেকটি জেলাকে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০,০০০ টাকা করে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হবে।




