নিট বিতর্ক শেষ। এবারে ককরোচ জনতা পার্টি(CJP) দেশজুড়ে একটি প্রচার অভিযান শুরু করতে চলেছে। তাদের এই প্রচার অভিযানের নাম ‘ক্যায়া বোলতি পাবলিক’। এই অভিযানের মাধ্যমে তারা শিক্ষা ব্যবস্থা, বেকারত্ব, এবং মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজি নগরে একটি সাংবাদিক বৈঠকে CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই প্রচার অভিযানের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরবেন এবং যুব প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। তারা তাদের সমস্যা শুনবেন এবং তাদের সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন।
অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, ‘আমাদের দেশের ৬৫ শতাংশের বেশি জনসংখ্যার বয়স ৩৫ বছরের নীচে। কিন্তু আমাদের দেশের নেতারা এবং রাজনৈতিক দলগুলি তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলতে রাজি নয়।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে বদলাতে চাই। বর্তমানে শিক্ষার খরচ সাধারণ পরিবারের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। প্রথম, দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের বার্ষিক ফি-ই এক থেকে দেড় লাখ টাকা। অভিভাবকদের উপরে এই ফি আর্থিক চাপ তৈরি করছে। শিক্ষাকে ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছে।’
দীপকে বেকারত্ব নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘দেশে কোনও চাকরি নেই। তাই তারা বাধ্য হচ্ছে অন্য কাজ করতে। আমাদের দেশে বেকারত্ব একটা বড় ইস্যু। ৮০ শতাংশ বেকার যুবকেরই ডিগ্রি আছে।এখন মানুষ ভাবছে যে তারা শিক্ষিত হয়ে ভুল করছে না তো? যাদের কোনও ডিগ্রি নেই, তারাই দেশ চালাচ্ছে। বেকারত্বকে এড়ানো যায় না। জেনজি-রা পথ দেখিয়েছে। ‘
নিট বিতর্কের প্রতিবাদ করে দেশজুড়ে শিরোনামে উঠে এসেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া তাদের এই আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশে। কলকাতা, বিহার সহ একাধিক রাজ্যের পড়ুয়ারা সামিল হয়েছিল এই আন্দোলনে। সকলেই ন্যায়ের দাবিতে নেমে এসেছিল রাজপথে। পড়ুয়াদের আন্দোলনকে আটকাতে দিল্লি পুলিশকে লাঠি চার্জ করতে হয়েছিল। কিন্তু তাতে আন্দোলন তো থামেইনি, বরং তা আরও বেড়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে গিয়েছিল বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সমস্ত দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। আর তা ছিল এই ককরোচদের জয়। কারণ এই আন্দোলনের মূল দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন ফাঁসের দায় নিতে হবে। আর পদত্যাগ করতে হবে।




