• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 6 August, 2026

ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় রাজি সরকার, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে প্রকাশ্য বৈঠকের দাবি

ছাত্রদের পক্ষ থেকেও ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করা হয়েছে। ওই দলে রয়েছেন ৮ জন ছাত্র প্রতিনিধি, ১ জন আইনজীবী এবং ২ জন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ

ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় রাজি সরকার, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে প্রকাশ্য বৈঠকের দাবি

Image: IANS

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা জেপিএসসি (GPSC) এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে গত প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে উত্তাল ঝাড়খণ্ড (Jharkhand)। রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে শত শত চাকরিপ্রার্থী দিন-রাত অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের চাপে অবশেষে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren) সরকার। তবে আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও রুদ্ধদ্বার বৈঠক নয়—সরকারের সঙ্গে যে আলোচনা হবে তা সংবাদমাধ্যম ও ক্যামেরার সামনে প্রকাশ্যেই করতে হবে।

গত ৫ জুলাই ১৪তম জেপিএসসি (GPSC)  প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই কারচুপি, স্বজনপোষণ ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন পরীক্ষার্থীরা। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং গোটা কেলেঙ্কারির সিবিআই (CBI)  তদন্তের দাবিতে ২৯ জুলাই থেকে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনের ১২ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। শত শত চাকরিপ্রার্থী খোলা আকাশের নীচে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো গত ৫ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন।

আরও পড়ুন: ‘দিদির স্কিম’ নয় কেন্দ্রের প্রকল্প, আবাসের টাকা বিলিতে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

বুধবার রাঁচির মহকুমাশাসক কুমার রজত অবস্থান বিক্ষোভের মঞ্চে গিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, সরকার আন্দোলনকারীদের সমস্ত যুক্তিসঙ্গত দাবি শুনতে প্রস্তুত। এজন্য ৫ থেকে ৭ জনের একটি প্রতিনিধি দল গঠনের অনুরোধও করেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Hemant Soren) মন্ত্রী ও শীর্ষ আমলাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটির ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা।

তবে সরকারের প্রস্তাবে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, গোপন বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। সমস্ত আলোচনা প্রকাশ্যে, সংবাদমাধ্যম ও ক্যামেরার সামনেই হতে হবে, যাতে রাজ্যের মানুষ জানতে পারেন সরকার কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই ছাত্রদের পক্ষ থেকেও ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করা হয়েছে। ওই দলে রয়েছেন ৮ জন ছাত্র প্রতিনিধি, ১ জন আইনজীবী এবং ২ জন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। দেবেন্দ্র মাহাতো জানিয়েছেন, প্রতিনিধিদল আলোচনায় বসতে প্রস্তুত হলেও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন ও অবস্থান বিক্ষোভ চলবে।

আরও পড়ুন: আসানসোলে ইএসআইসি মেডিক্যাল কলেজ, শমীকের প্রশ্নে জানাল কেন্দ্র

এদিকে পরীক্ষা কেলেঙ্কারির তদন্তে বড় অগ্রগতি দাবি করেছে রাজ্য সরকার। আন্দোলনকারীরা সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবিতে অনড় থাকলেও সরকারের বক্তব্য, সিআইডির বিশেষ তদন্তকারী দল দ্রুত তদন্ত চালাচ্ছে। বুধবার পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা টিডিপিএলের হিসাবরক্ষক রক্ষক সিংকে লখনউ থেকে গ্রেপ্তার করে রাঁচিতে আনা হয়। অভিযোগ, তিনি যে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, সেই ১৪তম জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেই নিজেও উত্তীর্ণ হন। এই মামলায় আরও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০। ডিজিটাল রেকর্ড, আবেদনপত্রের তথ্য এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখছে এসআইটি।

এদিকে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সিজেপি। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিনিধিদল শীঘ্রই রাঁচিতে গিয়ে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়াবে। তাঁর দাবি, এই আন্দোলন শুধু চাকরির পরীক্ষার স্বচ্ছতা নয়, দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির দাবিতেও গুরুত্বপূর্ণ।

ছাত্র আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী  অভিযোগ করেছেন, ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী আন্দোলন করলেও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)  নীরব। তাঁর দাবি, রাজ্যে কংগ্রেস-জেএমএম জোট সরকার ক্ষমতায় থাকায় রাহুল গান্ধী এই বিষয়ে মুখ খোলেননি। বিজেপির প্রশ্ন, কেন রাহুল গান্ধী বা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Hemant Soren) এতদিন আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেননি ?

দেখুন: মালদহে নাকা তল্লাশিতে বিপুল নগদ ও ব্রাউন সুগার উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

বিজেপির এই আক্রমণের জবাব দিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) কংগ্রেস মন্ত্রী ইরফান আনসারি। তাঁর বক্তব্য, সরকার ইতিমধ্যেই আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী (Hemant Soren) একটি কমিটি গঠন করেছেন তাঁদের দাবি যদি যুক্তিসঙ্গত হয়, তবে সরকার অবশ্যই বিবেচনা করবে। ফলে এখন নজর ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে। সেই আলোচনায় অচলাবস্থা কাটে, নাকি আন্দোলন আরও তীব্র হয়, সেটাই দেখার।