সাতসকালে ইমেল পাঠিয়ে কর্মীছাঁটাই করেছে আর্থিক সংস্থা ভিসা। হঠাৎ করে কাজ হারিয়ে আতান্তরে পড়েছেন অনেক ভারতীয়। এর জেরে খবরের শিরোনামে এসেছে এই সংস্থা। সম্প্রতি, বিশ্বব্যাপী মোট কর্মশক্তির সাত শতাংশ হ্রাসের কথা ঘোষণা করে তারা। ফলে নিশ্চিত ছিল ২,৬০০ জনের ছাঁটাই। যদিও ইমেলে চাকরি খোয়াতে হবে, তা আশা করেননি কেউই।
সূত্রের খবর, চলতি বছরের ২৯ জুলাই ছাঁটাই তালিকায় থাকা ভারতীয়দের ইমেল পাঠায় ভিসা। অভিযোগ, দিন শুরুর আগেই দুঃসংবাদ দেওয়া হয় তাঁদের। কারণ, ভোর ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে কাজ হারানোর ইমেল পান তাঁরা। আর্থিক পরিষেবা সংস্থাটির এ-হেন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কৃত্রিম মেধার (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই) বাড়বাড়ন্তকেই দায়ী করা হচ্ছে।
এত দিন পর্যন্ত ভিসায় কর্মরত ছিলেন ৩,৫০০-র বেশি ভারতীয়। এ দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে দফতর আছে তাদের। সেগুলি হল মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদ। এর মধ্যে কোন কার্যালয়ের ক’জন কাজ হারিয়েছেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। এক কথায় ছাঁটাই হওয়া ভারতীয়দের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে ওই আর্থিক পরিষেবা সংস্থা।
কাজ হারানো ভারতীয়দের মধ্যে নিচুর পাশাপাশি উঁচুতলার কর্মীরাও রয়েছে। সূত্রের খবর, সিনিয়র ডিরেক্টর এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজারদেরও ছাঁটাই করেছে ভিসা। চাকরি খোয়ানো অনেকেই আর্থিক পরিষেবা সংস্থার দীর্ঘ দিনের কর্মী ছিলেন। সংস্থার তরফে তাঁদের একাংশকে ১৫-৩০ দিনের নোটিস দেওয়া হয়। এই সময়সীমার মধ্যে কোম্পানির সিস্টেমে প্রবেশাধিকার হারান তাঁরা।
পাশাপাশি, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের ল্যাপটপ ও আইডি কার্ড জমা দিতে হয়েছে। তাঁরা কী কী আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন, আনুষ্ঠানিক ভাবে তার কোনও ঘোষণা করা হয়নি। কর্মীহ্রাসের কারণ নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও কৃত্রিম মেধার প্রসঙ্গ টেনেছেন ভিসার সিইও (চিফ এগ্জ়িকিউটিভ অফিসার) রায়ান ম্যাকইনার্নি।
আর্থিক পরিষেবা সংস্থাটির শীর্ষকর্তার কথায়, ‘‘আমাদের পরিষেবা শুধুমাত্র কর্মীভিত্তিক থাকছে না। সেই জায়গা থেকে সামনের দিকে তাকানোর সময় এসে গিয়েছে। আমরা এজেন্ট-ভিত্তিক এআই প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছি। এমন একটা ব্যবস্থা যেটা মানুষের তত্ত্বাবধানে দিব্যি কাজ চালিয়ে যেতে পারে।’’
অন্য দিকে, ভিসার ছাঁটাই নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-’২৫ আর্থিক বছরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা ছিল ৩৪,১০০। সর্বশেষ কর্মীহ্রাসের জেরে বিশ্বব্যাপী প্রতি ১৪ জনে চাকরি হারিয়েছেন অন্তত একজন।




