বাদল অধিবেশনে (Monsoon Session) ঘোর অচলাবস্থা অব্যাহত।সংসদে কাজের কাজ প্রায় কিছুই হচ্ছে না।এই জট কাটাতে এবার উদ্যোগী হল সরকার।বুধবার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে দেখা করলেন কিরেণ রিজিজু (Kiren Rijiju)।তিনি কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০ মিনিট বৈঠক হয়।সেখানে ডিলিমিটেশন বিল বা আসন পুনর্বিন্যাস বিল (Delimitation Bill) নিয়ে আলোচনা ওঠে। বিরোধীদের সভার কাজ সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করতে অনুরোধ করেন রিজিজু। ডিলিমিটেশন বিল যাতে পাশ হয়, তার জন্য বিরোধীদের সদর্থক ভূমিকাও নিতে বলেন তিনি। যদিও রিজিজুর সেই প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন রাহুল।
বরফ গলেনি
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাও। সরকার অনতিবিলম্বে সংসদে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করাতে চায়। এর মধ্যে অন্যতম হল এই ডিলিমিটেশন বিল। এছাড়া বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল (FCRA Bill) নিয়েও আলোচনা হয়। রিজিজু মূলত বিরোধীদের অবস্থান জানতে চান। কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোট নিজের অবস্থানেই অনড়। এই মুহূর্তে ডিলিমিটেশন বিলের পক্ষে তারা একেবারেই নেই। রাহুল গান্ধী তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। রিজিজু তাঁদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানান। তাতেও অবশ্য চিড়ে ভেজেনি।
পরবর্তী রণকৌশল
জানা যাচ্ছে, কংগ্রেস এবার অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে সবিস্তারে কথা বলবে।লক্ষ্য, বিরোধীদের তরফে একটি সম্মিলিত অবস্থান নেওয়া।ডিএমকে (DMK)-র সঙ্গেও কংগ্রেসের প্রাথমিক কথা হয়েছে।ডিএমকে আগে থেকেই ডিলিমিটেশনের চরম বিরোধী।তারা এই ইস্যুতে কংগ্রেসের পাশেই থাকবে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অন্তত এমনটাই মনে করছেন।
সংসদে অচলাবস্থা
গত ২০ জুলাই থেকে বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে।এখনও পর্যন্ত একবারও প্রশ্নোত্তর পর্ব (Question Hour) হয়নি।বিরোধীরা লাগাতার বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।২০ জুলাই যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের আন্দোলনে পুলিশি অভিযান হয়।বিরোধীরা এই ইস্যুতে প্রচণ্ড সরব।তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করছেন।এরই মধ্যে কার্যত বিরোধীশূন্য সংসদে বিনা আলোচনায় পাঁচটি বিল পাশ হয়ে গিয়েছে।
বিশেষ অধিবেশন
বিরোধীদের বিক্ষোভে বারবার লোকসভা মুলতুবি হয়ে যাচ্ছে। আগামী ১৩ আগস্ট এই অধিবেশন শেষ হওয়ার কথা। সরকার তার আগেই অধিবেশন শেষ করে দিতে পারে। এরপর স্বাধীনতা দিবসের পরে একটি বিশেষ অধিবেশন (Special Session) ডাকা হতে পারে। সূত্রের খবর, ১৬ আগাস্ট থেকে ১৮ আগস্ট, তিন দিনের এই বিশেষ অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং ডিলিমিটেশন বিল পেশ করা হতে পারে। লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩। ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে তা বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ করার প্রস্তাব রয়েছে। সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে অবশ্য এখনও এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেনি।




