পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। পুলিশে রাজনীতিকরণ হবে না। রাজ্যের মানুষজনের সাহায্যে কাজ করতে হবে। অপরাধীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে। ক্ষমতায় এসেই এই কথাগুলি বলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু শুধু বলেই ক্ষান্ত থাকেননি তিনি। বরং কাজ তাঁর নির্দেশ দেওয়া পথেই এগোচ্ছে কিনা তা সরেজমিনে দেখতে বুধবার সারপ্রাইজ ভিজিটে ওয়াটগঞ্জ থানায় গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার দুপুরে আচমকা তিনি ওয়াটগঞ্জ থানায় এসে পৌঁছন। থানায় এসে তিনি পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি নিজেই পুলিশমন্ত্রী।
এদিন ‘মহিলা সহায়তা ডেস্কে’ গিয়ে বসে থানায় থাকা পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। তারপর তাঁকে দেখা যায় রেজিস্ট্রার খাতা খতিয়ে দেখতে। রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী স্বয়ং থানায় উপস্থিত হওয়ায় থরহরিকম্প পরিস্থিতি তৈরি হয়। কারণ হঠাৎ এমন ঘটে যাওয়ায় শুরু হয়ে যায় ব্যস্ততা। কাউকে কিছু না জানিয়েই থানায় পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তাঁকে দেখে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেন পুলিশ কর্মীরা। ওয়াটগঞ্জ থানায় পৌঁছেই মহিলা হেল্প ডেস্কে যান মুখ্যমন্ত্রী। মহিলা হেল্প ডেস্ক কীভাবে কাজ করছে, সেটা সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে বিস্তারিত জানেন। মহিলা হেল্প ডেস্কের রেজিস্টারও খতিয়ে দেখেন তিনি।
এখানেই সারপ্রাইজ ভিজিট করে থেমে থাকেননি তিনি। বন্দর এলাকার ওয়াটগঞ্জ এবং একবালপুর থানায় যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে পৌঁছে যান। সেখানে গিয়ে কথা বলেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার সঙ্গে। সেখান থেকে বেরিয়ে যান দমকলের সদর দপ্তরেও। ওয়াটগঞ্জ থানার কাজকর্ম সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী। থানায় থাকা অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা কার্যকর আছে কিনা এবং সেগুলির এক্সপায়ারি ডেট নিয়মিত দেখা হয় কিনা, সে সম্পর্কেও জানতে চান। পরে তিনি নিজেই সরেজমিনে সেই ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখেন। থানায় পুলিশকর্মীরা কীভাবে কাজ করছেন, কীভাবে এফআইআর নেওয়া হয়, ডিউটি অফিসার কী দায়িত্ব পালন করছেন, থানায় মোট কতজন পুলিশকর্মী আছেন এবং রাউন্ডে কতজন আছেন সব বিষয়ে খোঁজ নেন তিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীদের কাছ থেকে নানা তথ্য নেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ওয়াটগঞ্জ থানায় থাকেন তিনি।
তাছাড়া পূর্ত দপ্তরেও যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বৈঠকের পর আচমকা থানাগুলি পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েন পুলিশমন্ত্রী। ডিসি পোর্টের সঙ্গে দেখা হয় পুলিশমন্ত্রীর। তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাও বলেছেন। লালবাজার থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যান দমকলের সদর দপ্তরে। সেখানে আধিকারিকদের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলেন। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে কতটা তাড়াতাড়ি দমকল ‘রেসপন্স’ করতে পারবে সেটা নিয়েও আলোচনা হয়।




