আগামী ৩ অক্টোবর ভারত ও ব্রাজিলের মধ্যে যে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ হবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে, তা যাতে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য রাজ্য সরকার সব রকম ভাবে সহায়তা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ডিসেম্বরে লিওনেল মেসির ইভেন্টে মাঠের মধ্যে যে রকম শৃঙ্খলাহীনতা দেখা গিয়েছিল, সে রকম যাতে না হয়, তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ম্যাচ নিয়ে এক বৈঠকে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবেকে নিয়ে একটি বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই এই কথাগুলি জানান তিনি।
যুবভারতীতে এই হাই ভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানান ক্রীড়ামন্ত্রী। ম্যাচ পরিচালনা, নিরাপত্তা, টিকিট ব্যবস্থা ও ফিফার নির্দেশিকা মেনে যাতে ম্যাচ আয়োজন করা হয়—এই সমস্ত বিষয় নিয়েই আলোচনা হয় এই বৈঠকে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ফিফার যাবতীয় নিয়ম ও পদ্ধতি মেনেই এই ম্যাচ আয়োজন করা হবে। এই ম্যাচের প্রধান আয়োজক ফেডারেশন। তবে এত বড় ইভেন্ট করার জন্য রাজ্য সরকারের সাহায্য অবশ্যই প্রয়োজন। সে জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন কল্যাণ চৌবে ও ইন্দ্রনীল খাঁ। শুভেন্দু দুজনকেই আশ্বাস দেন, প্রয়োজন হলে কেন্দ্রের সাহায্যও চাইবেন তিনি।
ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেন, টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াই স্বচ্ছ রাখা হবে। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ফিফা যেভাবে টিকিটের কালোবাজারি রুখতে প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল, সেই ধরনের ব্যবস্থাই এই ম্যাচেও প্রয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার কোনও অনিয়মের সুযোগ রাখতে চাইছে না আয়োজকেরা। এছাড়াও এই বৈঠকে ছিলেন ক্রীড়া দফতর, পূর্ত দফতর এবং পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরাও। তাঁদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শোনা যাচ্ছে এই একটি ম্যাচ আয়োজন করতেই প্রা ৬০-৭০ কোটি টাকা খরচ হবে, যা মূলত স্পনসরশিপ থেকে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিতে টিকিট বিক্রির জন্য কোনো এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কোনো সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে ফেডারেশনের। ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছেন বিশ্বকাপে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে টিকিট বিক্রি করা হয়েছে, সেই প্রযুক্তি এই ম্যাচেও ব্যবহার করা হবে। তবে তা খুবই ব্যয়সাপেক্ষ। শেষ পর্যন্ত এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে কি না, সেটাই দেখার। টিকিটের দাম এখনো ঠিক হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
এই ম্যাচ নিয়ে এত তোড়জোড় হলেও এমন একটা পরিস্থিতিতে এই ম্যাচ হতে চলেছে যা নিয়ে বিরক্ত ভারতীয় ফুটবল মহলের একাংশ। প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া এই হাইপ্রোফাইল ম্যাচের সময় এবং উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বাইচুং ভুটিয়া বলেন, ‘ব্রাজিল ম্যাচের সময়টাই আমার কাছে সমস্যার। ফিফা আসিয়ান কাপ ওই সময়েই হবে, আর আমরা জানি না জাতীয় দল কেমন হবে’। তার এ উদ্বেগ অবশ্য অযৌক্তিক নয়। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৩৮ নম্বরে থাকা ভারত আসিয়ান কাপের গ্রুপে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের সঙ্গে রয়েছে। এই টুর্নামেন্টে শুধু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দলই পরের ধাপে যাবে।
যোগ্যতা অর্জনের লড়াই এমনিতেই কঠিন হবে। এ রকম সময়ে একটি প্রদর্শনী ম্যাচের দিকে মনোযোগ সরানো নিয়ে যৌক্তিক তুলেছেন বাইচুং। তাঁর কাছে ব্রাজিল ম্যাচ যেন ভারতীয় ফুটবলের মূল সমস্যাগুলো সমাধান না করতে পারার একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে। বাইচুং বলেছেন, ‘আমার প্রশ্ন, ব্রাজিলের বিপক্ষে এই প্রীতি ম্যাচের উদ্দেশ্য কী? ভারতীয় ফুটবল কি এখান থেকে কিছু লাভ করবে?’
তিনি আরো বলেন, ‘টাটার মতো একটি বড় কর্পোরেট গ্রুপ তাদের ক্লাব জামশেদপুর এফসি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে। ভারতীয় ফুটবলের প্রকৃত অবস্থা ঠিক কী, তা এ থেকেই বোঝা যায়’। জামশেদপুর এফসি-র এই সিদ্ধান্তে ভারতীয় ফুটবলের আর্থিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যে সময়ে ক্লাবগুলো অস্তিত্ব বাঁচানোর লড়াই করছে, উন্নতির রাস্তা আরো কঠিন হয়ে যাচ্ছে এবং ফুটবলে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে, সেই সময়ে একটি বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচ নিয়ে এই হইচই বাইচুংয়ের কাছে অযৌক্তিক মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ফুটবল ফেডারেশনের এখন উচিত নিজের ঘর গোছানো। সিনিয়র দলের কথা বাদই দিলাম, অনূর্ধ্ব-১৭ দলও মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না। জাতীয় লিগ এলোমেলো অবস্থায় চলছে, জুনিয়র প্রোগ্রামের কোনো দিশা নেই এবং তৃণমূল স্তরে ফুটবলের উন্নয়নের জন্য কোনো টাকা নেই। এখন এই ম্যাচ মানে একটা পরিবার যারা নিজেদের খাবারটুকু ঠিকমতো জোগাড় করতে পারে না ঠিকঠাক, তাদের ছেলের বিয়েতে শাহরুখ খানকে এনে নাচানোর মতো বিষয়’।




