• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 4 August, 2026

ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্টরা’ ৩০ জন সন্ত্রাসবাদীকে হত্যা করেছে, দাবি লস্কর শীর্ষনেতার

পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, মুজফ‌ফরাবাদ, রাওয়ালকোট-সহ পাকিস্তানের একাধিক শহরে হামলা হয়েছে লস্করের সদস্যদের উপরে

ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্টরা’ ৩০ জন সন্ত্রাসবাদীকে হত্যা করেছে, দাবি লস্কর শীর্ষনেতার

Lashkar-E-Toiba Leader Photo-SNS

পাকিস্তান মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার এক শীর্ষস্থানীয় সদস্য একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেছে যে, গত তিন-চার বছর ধরে এক অজ্ঞাতপরিচয়ের আততায়ী পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে নিষিদ্ধ এই সংগঠনের ৩০ জনেরও বেশি সদস্যকে হত্যা করেছে। যদিও এই খুনগুলি কে করেছে সেটার পরিচয় এখনও জানা নেই পাকিস্তানের এই জঙ্গিগোষ্ঠীর। সমাজমাধ্যমে যে ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে সেখানে যে ব্যক্তিকে কথা বলতে দেখা গিয়েছে, সে রিজওয়ান হানিফ বলেই জানা গিয়েছে। এই ব্যক্তি একজন ‘ওয়ান্টেড’ তালিকার শীর্ষ সন্ত্রাসবাদী। দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ওই ব্যক্তির পরিচয় এবং ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছে। এই ভিডিও’র সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান বাংলা ডিজিটাল।

ভারতের গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে, এই ভিডিও মে মাসে রেকর্ড করা হয়ে থাকতে পারে। পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠী লস্করের সদস্যদের উদ্দেশে রিজওয়ান এমন বক্তৃতা করছিল। সেখানেই ৩০ জন লস্কর জঙ্গির মৃত্যুর কথা স্বীকার করে নিয়েছে এই শীর্ষ সন্ত্রাসবাদী। গত কয়েক বছরে নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয় যে সব তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে লস্কর, তার মধ্যে এটা হচ্ছে অন্যতম বড় ‘স্বীকারোক্তি’। একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় রিজওয়ান হানিফ দাবি করেছে, ‘গত তিন-চার বছরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের হাতে আমাদের ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।’

এখানেই শেষ নয়, এই লস্কর নেতার দাবি, পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, মুজফ‌্‌ফরাবাদ, রাওয়ালকোট-সহ পাকিস্তানের একাধিক শহরে হামলা হয়েছে লস্করের সদস্যদের উপরে। এই অজ্ঞাতপরিচয়ের হাতে একের পর এক লস্কর জঙ্গির মৃত্যুর ঘটনায় ‘ভারত-যোগ’ থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে ভারত। শীর্ষ এই সন্ত্রাসবাদী রিজওয়ান হানিফ দাবি করেছে যে, নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের জেরে তাদের সংগঠনের সদস্যরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরে শান্তি ও স্বস্তির সঙ্গে বসবাস করতে পারছিল না। গোটা ভিডিও’তে রিজওয়ান হানিফ হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধেও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছে। সেখানে উঠে এসেছে যে, কীভাবে উগ্রবাদী সংগঠনগুলি ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ঘৃণা উসকে দেয় এবং ব্যক্তিদের উগ্রবাদের পথে ঠেলে দেয়।

তাছাড়া পাকিস্তান সরকারও আগে নানা সময়ে পাক ভূখণ্ডে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডে দিল্লির দিকে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও ভারত শুরু থেকেই এই ধরনের কোনও অভিযোগ স্বীকার করেনি। উল্লেখ্য, সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় ‘মারকাজ-উদ-দাওয়াহ-ওয়াল-ইরশাদ’-এর সশস্ত্র শাখা হিসেবে ১৯৮০ দশকের শেষভাগে পাকিস্তানে হাফিজ মহম্মদ সইদ, জাফর ইকবাল এবং আবদুল্লা আজ্জাম ‘লস্কর-ই-তৈবা’ প্রতিষ্ঠা করেছিল। আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত বাহিনী প্রত্যাহারের পর সংগঠন তাদের সামরিক কাজ জম্মু ও কাশ্মীরের দিকে কেন্দ্রীভূত করে। ২০০৮ সালের মুম্বাই সন্ত্রাসবাদী হামলার মূলচক্রী হিসেবে লস্কর-ই-তৈবা আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাত হয়ে ওঠে। ওই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হয়েছিলেন। এমনকী আল-কায়েদা ও তালিবানের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ২০০৫ সালে রাষ্ট্রসংঘ লস্কর-ই-তৈবার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এখন ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাষ্ট্রসংঘ এবং আরও বেশ কয়েকটি দেশ এই সংগঠনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।