দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনাতে মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটেছে। তারপরেও হুঁশ নেই সাধারণ মানুষের। প্রতি বছর ট্রাফিক নিরাপত্তা সপ্তাহ উদযাপন করা হলেও পরে ট্রাফিক নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাইক ও গাড়ি নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বহু মানুষ। তাদের সচেতন করতেই নতুন সরকারের হাত ধরে সোমবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলা জুড়ে পালিত হল ট্রাফিক নিরাপত্তা সপ্তাহ।
৩ রা আগস্ট থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত জেলার থানা এলাকায় ট্রাফিক সচেতনা নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ট্রাফিক নিরাপত্তা সপ্তাহ উদযাপন করা হবে। এদিন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে তমলুক থানার ব্যবস্থাপনায় তমলুক হাসপাতাল মোড়ে ট্রাফিক নিরাপত্তা সপ্তাহ উদযাপন করা হয়। এলাকার বিভিন্ন স্কুল কলেজের পড়ুয়া থেকে সেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা, নন্দকুমারের বিধায়ক নির্মল খাঁড়া, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বিভাস রায়-সহ অন্যান্যরা।
এদিন উপস্থিত আধিকারিকরা ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করলে কি কি ঘটতে পারে তা তাঁরা পথচলতি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন। মূলত পড়ুয়ারাই পারে তাদের পরিবারের সদস্যদের বোঝাতে যে ট্রাফিক আইন মেনে চলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুলিশ সুপার ও জেলাশাসক পড়ুয়াদের বিশেষ ভূমিকা পালনের কথা বলেন। এদিন তমলুক শহর পরিক্রমা করে সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক সচেতনতা বার্তা তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে, ট্রাফিক নিয়ম না মানলে স্বর্গে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা পথ চলতি মানুষদের বলছেন যমদূত। যারা ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলছেন তাদের একটি করে বৃক্ষ তুলে দিচ্ছেন যমদূত। এমনই ছবি দেখা গেল নন্দকুমার দিঘার ১১৬বি জাতীয় সড়কের রামনগরে। এদিন রামনগর থানার উদ্যোগে ট্রাফিক নিরাপত্তা সপ্তাহ উদযাপন করা হয়। কাঁথি মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ও রামনগর থানার পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল। এদিন রামনগর বাজারে যমদূত সাজে এক ব্যক্তি ট্রাফিক নিরাপত্তা পথচলতি মানুষ থেকে বাইক ও গাড়ি চালকদের বোঝান।
শুধু পুলিশের একক চেষ্টায় জেলার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। ট্রাফিক নিয়ম মেনে গাড়ি না চালালে আগামীদিনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার।।




