পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (Pakistan-occupied Kashmir বা PoK) আনাচকানাচে এখন রক্তের দাগ। সেনা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ ক্রমশ ভয়াবহ চেহারা নিচ্ছে। আর ততোধিক তীব্র হচ্ছে পাকিস্তান সেনার নশংস হামলার বহর। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এ বার পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর নিশানায় কিশোর-কিশোরীরাও। মাত্র ১৫ বছরের বাচ্চারা আন্দোলনে নেমে রেহাই পাচ্ছে না গ্রেপ্তারি আর বর্বরতা থেকে।
আগুনের শিখা
জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (JKJAAC) নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ৩৮ দফা দাবিদাওয়া নিয়ে। ভর্তুকিতে গম, বিদ্যুতের বিল কমানো, বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা, সরকারি কর্মীদের বাড়তি সুযোগসুবিধা বন্ধ করার মতো দাবিগুলি নিয়েই পথে নেমেছিলেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু আন্দোলন যত জোরালো হয়েছে, ততই কঠোর হয়েছে ইসলামাবাদের জবাব।
চল্লিশের বেশি মৃত্যু
মুজফফরাবাদের নীলম সেতু-সহ একাধিক জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ। রাওয়ালাকোটে মধ্যরাতে অভিযান চালানো হয়েছে বলেও খবর মিলেছে। সেনার হাতে এখনও পর্যন্ত চল্লিশের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বিক্ষোভস্থলে গত পঞ্চাশ দিন ধরে বসে রয়েছেন বহু মহিলা ও শিশু। আশঙ্কা, ভয় ছড়াতে এ বার মহিলা ও শিশুদেরও নিশানা করতে পারে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
কিশোরদের রেহাই নেই
সবচেয়ে আতঙ্কের কথা, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বা তার সঙ্গে সংযুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তেরো-চোদ্দো বছরের বাচ্চাদের। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে মুজফফরাবাদ প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনও শুরু করেছেন পড়ুয়ারা। রাওয়ালাকোট এলাকার বাইরের বহু ছাত্রছাত্রীর নাম জড়ানো হয়েছে এফআইআরে (FIR), এমনকি ইসলামাবাদে থাকা পড়ুয়াদেরও ছাড় মেলেনি বলে অভিযোগ।
অবরুদ্ধ PoK
মুজফফরাবাদ, মিরপুর, কোটলি, পুঞ্চ, নীলম এবং ভীমবেরের মতো এলাকায় দোকানপাট, বাজার, যান চলাচল সবই বন্ধ। বিক্ষোভ ঠেকাতে গোটা অঞ্চলে জারি করা হয়েছে কড়া কারফিউ। গণপরিবাহন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ। বিক্ষোভের খবর করতে গিয়ে রাষ্ট্রের হামলার মুখে পড়ছেন সংবাদকর্মীরাও। উদ্বেগের বিষয় হল, ইসলামাবাদ প্রেস ক্লাবেও পুলিশি হানার খবর প্রকাশ্যে আসছে।
রাজনৈতিক হিসেবনিকেশ
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই দমননীতির পিছনে রয়েছে সুচিন্তিত রাজনৈতিক অঙ্ক। পাকিস্তান পিপলস পার্টি (PPP) ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলেছে, পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (PML-N) সেনাবাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্বাচনে কারচুপি করছে। অভিযোগ উঠছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সেনাপ্রধান আসিম মুনীর নিজের অনুগত নেতা বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এই আবহে গণআন্দোলনকে কড়া হাতে দমন করে বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি ভারতকেও স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে ইসলামাবাদ, এমনটাই মত কূটনৈতিক মহলের।
শেষযাত্রায় জনজোয়ার
সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিহত আন্দোলনকারীদের শেষযাত্রায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে মুজফফরাবাদে। রাষ্ট্রের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাস আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তুলেছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জেকেজেএসিসির নেতাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির উপরেও অস্ত্র হাতে হামলা চালাচ্ছে প্রশাসন-ঘনিষ্ঠ বাহিনী। আগামীতে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে পরিস্থিতি কোন পথে যায়, সে দিকে নজর রাখছে সব মহলই।




