কেন্দ্রের ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে নজিরবিহীন আর্থিক বরাদ্দের ঘোষণার পর বাংলার ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী *ড. ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁর দাবি, নতুন এই উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরো বেশি আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তুলে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
রবিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইন্দ্রনীল বলেন, ‘খেলাধুলা এবং ক্রীড়াবিদদের যেভাবে উৎসাহিত করেছেন, তার জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। দেশে ২০৩০-এ কমনওয়েলথ গেমস এবং ২০৩৬-এ অলিম্পিক্স আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আমাদের পদকের সংখ্যাও বাড়ছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ‘খেলো ইন্ডিয়া’ আগামী প্রজন্মের ক্রীড়াবিদ তৈরির ক্ষেত্রে অসাধারণ একটি প্রকল্প’।
ক্রীড়ামন্ত্রীর দাবি, খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ৫ কোটি টাকা করে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকার ১০০টি ইনডোর স্টেডিয়ামে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করেছে। তাঁর মতে, এর ফলে জেলার প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
ক্রীড়ামন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদরা তৃণমূল স্তর থেকে পেশাদার পর্যায়ে উঠে আসার সুযোগ পাবেন। উন্নত কোচিং, পুষ্টিবিদদের সহায়তা, বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা— সবই এই প্রকল্পের অংশ। কেন্দ্র যেভাবে ক্রীড়াবিদদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং বাজেট বাড়িয়েছে, তাতে ভারতীয় খেলাধুলা আরও বড় সাফল্যের পথে এগোবে’।
এদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য সম্প্রসারিত ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্প এবং জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলির (ANSF) আর্থিক সহায়তা প্রকল্পে মোট ৩৬,৪৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে। স্বাধীনতার পর একেই দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
নতুন খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পের লক্ষ্য, গ্রামের মাঠ থেকে স্কুল, একাডেমি হয়ে অলিম্পিকের মঞ্চ পর্যন্ত প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়নের পথ তৈরি করা। সেই লক্ষ্যে ন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স, খেলো ইন্ডিয়া সেন্টার অব এক্সেলেন্স, সাই ট্রেনিং সেন্টার, স্বীকৃত অ্যাকাডেমি এবং খেলো ইন্ডিয়া সেন্টার-সহ একাধিক পরিকাঠামোকে একই ছাতার তলায় আনা হবে।
এছাড়া স্কুল স্তরে প্রতিভা খুঁজে বের করতে চালু হচ্ছে ‘খেলো ইন্ডিয়া ফিডার স্কুল’ এবং ‘খেলো ইন্ডিয়া উৎকর্ষ বিদ্যালয়’। পাশাপাশি নতুন ‘ইমার্জিং খেলো ইন্ডিয়া অ্যাথলিট’ বিভাগ চালু করে আরও বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মহিলা, প্যারা এবং দেশীয় খেলাধুলার উপর বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি দেশজুড়ে প্রতিযোগিতার সংখ্যা বাড়ানো, কোচিংয়ের মান উন্নত করা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের আরও বেশি সুযোগ করে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।




