• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 2 August, 2026

এনসিপিআই-তে যোগ দিতে চলেছেন শশী পাঁজা! রাজ্যজুড়ে গুঞ্জন চরমে উঠেছে

তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পর দল ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন

এনসিপিআই-তে যোগ দিতে চলেছেন শশী পাঁজা! রাজ্যজুড়ে গুঞ্জন চরমে উঠেছে

Former Minister Shashi Panja Photo-SNS

তিনি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন। দলের অন্দরেও বড় নেত্রী ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গীও ছিলেন। কিন্তু ৪ মে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে গিয়ে বিরোধী আসনে বসেছে। ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। বিজেপি যখন বিরোধী আসনে ছিলেন তখন তাদের কাণ্ডকারখানা নিয়ে কড়া সমালোচনা করতে দেখা গিয়েছিল ওই মহিলা নেত্রীকে। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পর তাঁকে হাতে গোনা দিন দেখা গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যেতে। তারপর দল ভাঙার আগে থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি। দলীয় কার্যালয়ে আসা থেকে শুরু করে সভা-সমাবেশে উপস্থিত থাকা বন্ধ করে দিয়েছেন। বাড়ির বাইরে পর্যন্ত তাঁকে দেখা যাচ্ছিল না। এবার তিনি নাকি এনসিপিআই-তে যোগ দিতে চলেছেন বলে গুঞ্জন চরমে উঠেছে। হ্যাঁ, তিনি শশী পাঁজা।

তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পর দল ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। ৬০ জন বিধায়ককে নিয়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে বিধানসভায় আলাদা হয়ে গিয়েছেন বিদ্রোহী শিবির। বহু প্রাক্তন মন্ত্রী সেখানে যোগ দিয়েছেন। এবার কি তাহলে শ্যামপুকুরের প্রাক্তন বিধায়ক শশী পাঁজার পালা? উঠছে প্রশ্ন। কারণ শনিবার দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে মাত্র ৮০০ মিটার দূরে কাকলি ঘোষদস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে গিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী। তখন থেকেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সেখানে তো তিনি এমনি যাননি।

শুধু তাই নয়, কাকলি ঘোষদস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে গেলেও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি কিন্তু তিনি যাননি বলে সূত্রের খবর। এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষদস্তিদার। সুতরাং তাঁর সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ গুঞ্জন তৈরি করেছে। এখন রাজ্য-রাজনীতির যা অবস্থা তাতে কাকলি-শশী সাক্ষাৎ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ কাকলি-শশী দু’জনেই চিকিৎসক হলেও কেউ এখন আর ডাক্তারি করেন না। কাকলির ঘোষদস্তিদার ইনস্টিটিউট অফ ফার্টিলিটি রিসার্চ সেন্টারে শশী পাঁজা যখন যান তখন সেখানে কাকলি দেবীও উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং আগে দু’জনের ফোনে কথা হওয়ার পর এই সাক্ষাৎ বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও ওই ক্লিনিক থেকে বেরিয়ে এমনি এসেছিলেন বলে দাবি করেছেন শশী পাঁজা। যা কেউ বিশ্বাস করতে রাজি নন। দু’ঘণ্টা এমন টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমনি কেউ দেখা করতে যান না। সেখানে যে নির্দিষ্ট কারণ ছিল সেটা সহজেই অনুমেয়। এই গুঞ্জনের আবহেই রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন কাকলি ঘোষদস্তিদারের পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষদস্তিদার। সেখানে তিনি লেখেন, ‘শশী পাঁজা খুব শীঘ্রই তৃণমূল ছাড়তে চলেছেন।’ বাকিটা সময়ের উপর ছেড়ে দিচ্ছেন রাজনীতিবিদরা।