ঠিক ২০ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের বুকে নতুন অধ্যায় শুরু হলো। নির্বাসন এখন অতীত। বরং খোলা আকাশের নীচে দীর্ঘ শ্বাস নেওয়া এখন সম্ভব হয়েছে। শনিবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন এমনই পরিবেশ অনুভব করলেন। আর তাঁকে স্বাগত জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০০৭ সালে তসলিমার উপন্যাস ‘দ্বিখণ্ডিত’-র প্রকাশকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল কল্লোলিনী কলকাতা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সেনা নামাতে হয়েছিল। তৎকালীন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বামফ্রন্ট সরকার তসলিমার বইটিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং লেখিকাকে কলকাতা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। প্রায় ২০ বছর পর বিজেপি সরকার তাঁকে সাদরে গ্রহণ করল।
২০১১ সালে বাংলায় রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠিত হয়েছিল। কিন্তু তসলিমা তখনও ‘অলিখিত নিষেধাজ্ঞা’র জেরে মহানগরীতে পা রাখতে পারেননি। অবশেষে দীর্ঘ দশক পার করে রাজ্য-রাজনীতি এবং প্রশাসনের পটপরিবর্তন হওয়ায় আবার কলকাতায় ফিরলেন লেখিকা। এখানেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে অভয় দিয়ে বলেন, ‘সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর। আপনি যতবার ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা আসবেন, কথা বলবেন। শৃঙ্খলমুক্ত, বাঁধনমুক্ত পশ্চিমবঙ্গে সবার আসার, বাক- স্বাধীনতার অধিকার আছে। ধমক-চমক অতীত। নতুন সরকারের হাতে রাজ্যের গণতন্ত্র, সংবিধান, মৌলিক অধিকার, বাক-স্বাধীনতা সুরক্ষিত।’
এরপর কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান এবং তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে তসলিমা নাসরিনকে স্বাগত জানাতে রবীন্দ্র সদনে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি এবং ‘বন্দে মাতরম্’-এর সার্ধশতবর্ষের বিশেষ স্মারক লেখিকার হাতে তুলে দেন। এভাবেই তসলিমাকে কলকাতার মাটিতে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তখন তুঁতে বালুচরী, লাল টিপে ‘লেখিকা’র মুখেও শান্তির আবহ ফুটে ওঠে। আর লেখিকাকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘আপনি একজন প্রখ্যাত লেখিকা, অগুণতি মানুষ আপনার লেখা পড়েন। আপনার অনুরাগীর সংখ্যাও বিপুল। আপনি পশ্চিমবঙ্গে সানন্দে আপনার বক্তব্য রাখুন। এই নতুন বাংলা নিশ্চিতভাবেই আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতার থেকে আলাদা।’
তাছাড়া তসলিমা নাসরিনের জন্য কবিতা লিখেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেই কবিতা পাঠ করে শোনান মন্ত্রী। তারপর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়েই প্রমাণিত নতুন সরকারের হাতে এই বাংলার রাজ্য সংবিধান, গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। ‘দেখে নেব’, ‘ধমক-চমক’ কিংবা ‘আটকে দেব’ এইসব সংস্কৃতি এখন অতীত। পশ্চিমবঙ্গ এখন শৃঙ্খলমুক্ত, বাঁধনমুক্ত। এখানে সবার আসার অধিকার আছে। সবার নিজের কথা বলার অধিকার আছে। এই সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে যাবতীয় নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। শুধু সরকারের মুখের পরিবর্তন ঘটেনি, ব্যবস্থারও পরিবর্তন হয়েছে।’




